সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফের বন্যায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ ( ইউপি) প্লাবিত হয়েছে। সারী ও বড় নয়াগং নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে নিজপাট, জৈন্তাপুর, চারিকাটা, ফতেহপুর, দরবস্ত ও চিকনাগুলো ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
বন্যায় আটকেপড়া লোকজন গৃহপালিত পশু নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যায় পরিস্থিতি ও বন্যায় আটকাপড়াদের খোঁজখবর নিতে এলাকা পরিদর্শন করেছেন জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বন্যা কবলিত এলাকা গুলো হলো-মাস্থিংহাটি, মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, মোরগাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদারপাড়া, নয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, ডিবির হাওর, ঘিলাতৈল, হেলিরাই, মুক্তাপুর, মোয়াখাই, বিরাইমারা, গড়েরপার, বিরাইমারা হাওর, লামনীগ্রাম, কাটাখাল, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, শেওলারটুক, ১ নম্বর লক্ষ্মীপুর, ২ নম্বর লক্ষ্মীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, কাঠালবাড়ী, নলজুরী হাওর, বালিদাঁড়া, রামপ্রসাদ, থুবাং, বাউরভাগ উত্তর, বাউরভাগ দক্ষিণ, বনপাড়া, থুবাং, রামপ্রসাদ, লালা, ছাতারখাই, কঞ্জর, সেনগ্রাম, নয়াখেল, হাটিরগ্রাম, বিড়াখাই ও গাতিগ্রাম।
উপজেলার সর্ববৃহৎ সারীনদী ও বড় নয়াগাং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান সারী-গোয়াইন বেড়ীবাঁধ প্রকল্পের কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন।
তিনি আরও বলেন, ‘গত দু’দিন হতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টি থামলে পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-বশিরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যায় প্লাবিত এলাকার খোঁজখরব রাখা হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছি।’
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ জানান, বন্যায় প্লাবিত এলাকাগুলোর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।