অ্যান্টিগায় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথমদিনটা একদমই ভালো যায়নি বাংলাদেশের। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় মাত্র ১০৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। জবাবে ব্যাট করতে ৪৮ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেটের বিনিময়ে ৯৫ রানের সংগ্রহ নিয়ে দিন শেষ করা স্বাগতিকরা।
টেস্ট ক্রিকেট মানেই ধৈর্যের খেলা। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই এ খেলায় ধসে পড়ে বাংলাদেশ। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। টপ অর্ডারে একরাশ ব্যর্থতা। কোনো ব্যাটারই টেস্ট মেজাজ দেখাতে পারেননি। সবাই কেবল আসা-যাওয়ার মিছিলে ছিলেন। বল হাতে তাই লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে টাইগাররা। যেখানে প্রথম উইকেট শিকার করে টাইগার শিবিরে স্বস্তি এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার পরে উইকেটের দেখা পেয়েছেন এবাদত হোসেনও।
প্রথম পাঁচ ওভারে কোনো রানই নেননি দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনার অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাথওয়েট ও জন ক্যাম্পবেল। ৬ষ্ঠ ওভারে দলীয় রানের খাতা খুলে তারা। আর ১৫তম ওভার শেষে স্বাগতিকদের স্কোর ১৫ রান। এতেই এই দুই ব্যাটারের ধৈর্যের প্যারামিটার মাপা যায়। চা বিরতি থেকে ফেরার পর হাত খুলতে শুরু করেছে তারা। অবশ্য রান নিতে চাননি, তা বললে ভুল হবে। বাংলাদেশি বোলাররা আটসাট বোলিং করে চেপে ধরতে সক্ষম হয়। কেবল উইকেট ই পাওয়া হয়নি।
সুযোগ তৈরি হয়েছিল অবশ্য। তখনো রানের খাতা খুলেননি ব্রাথওয়েট। মুস্তাফিজুর রহমানের একটি ডেলিভারি ফ্লিক করতে গিয়ে লেগ স্লিপে উঠিয়ে দেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। সেটি তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক। এরপর এমন সুযোগ আর আসেনি। অপেক্ষা কেবল বাড়তে থাকে।
অবশেষে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দিয়েছেন মুস্তাফিজ। দলীয় ২৬তম ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই ক্যাম্পবেলকে সরাসরি বোল্ড করেছেন তিনি। ৪৪ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম উইকেটের পতন ঘটলো। ক্যাম্পবেল করেন ২৪ রান। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ক্যারিবীয়দের ২৮ রানের জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় উইকেট এনে দেন পেসার এবাদত হোসেন। তার করা ইনিংসের ৩৪তম ওভারে সুইংয়ে কাবু হয়ে উইকেটকিপারের হাতে বল তুলে দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন রাইমন রাইফার। ২৬ বল মোকাবিলায় তিনি করেন ১১ রান।
দিন শেষে অপরাজিত রয়েছে ব্রাথওয়েট ও এনক্রুমা বোনার। তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ যথাক্রমে ৪২ ও ১২।
এর আগে দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১০৩ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারীরা। সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন অধিনায়ক সাকিব। বাকিরা সবাই মিলে করেন ৫২ রান। এর মধ্যে তামিম ইকবাল ২৯ ও লিটন দাস ১২ রান করেন। ৫ জন ব্যাটার শূন্য রানে আউট হয়েছেন, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, নুরুল হাসান সোহান ও খালেদ আহমেদ।
ক্যারিবিয়ান বোলারদের মধ্যে আলজারি জোসেফ ৩টি, জাইডেন সিলস ৩টি এবং কেমার রোচ ও কাইল মায়ার্স ২টি করে উইকেট শিকার করেন।