বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল

ঘুরে বেড়ানো

ইত্তেফাক ডেস্ক

ঈদ উপলক্ষে দেশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

সিলেট: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের অনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে নানা পর্যটন স্পট। ঘুরে বেড়ানোর জায়গার যেন শেষ নেই। উঁচু-নিচু টিলা আর বনবনানীতে ঘেরা সিলেট। ঢেউ খেলানো সবুজ চা-বাগান, পাহাড় থেকে নেমে আসা সফেদ ঝরনা, সবুজ পাহাড়ের গায়ে উড়ে বেড়ানো মেঘের খেলা আর বিশাল হাওরের মৃদুমন্দ ঢেউ মন কেড়ে নেয়। তাই বরাবরই সিলেট হাতছানি দেয় পর্যটকদের। আর ঈদ উপলক্ষে লম্বা ছুটিতে  প্রতিবছরের মতো এবারও হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় জমেছে সিলেটের এসব পর্যটন স্পটে। বৃষ্টি মাখা ঈদের আনন্দে ভাটা পড়েনি পর্যটকদের আনন্দে। তারা ঈদের ছুটি চুটিয়ে কাটাচ্ছেন সিলেটের নানা স্থানে। সিলেটের প্রকৃতি কন্যা জাফলং, বিছনাকান্দি, লালাখাল, রাতারগুল, লোভাছড়া চা-বাগান, মালনীছড়া চা বাগান, হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর, পানতুমাইসহ সবকটি পর্যটন স্পটে লোকে গিজ গিজ করছে।

জাফলং ‘পিকনিক’ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধকারী রাজিবুল ইসলাম শিমুল জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ঈদে পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুন বেড়েছে।

ঢাকার গাজীপুরের ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা কজন বন্ধু পরিবার-পরিজন নিয়ে জাফলং এসে খুবই আনন্দ উপভোগ করছি।

রংপুর: রংপুর বিভাগে অসহ্য গরম উপেক্ষা করে মানুষজন ছুটে বেড়াচ্ছেন ঈদ আনন্দে। হই চই আর আনন্দের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে রংপুর শহরসহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। রংপুর মহানগরীর প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্ক, সিটি চিকলি পার্ক, রংপুর চিড়িয়াখানা, কালেক্টরেট সুরভি উদ্যান, টাউন হল চত্বর, শিরিন পার্ক,  খেয়াপার্ক, তাজহাট জমিদারবাড়ি ও জাদুঘর, তিস্তা সেতুর দুই কূল জুড়ে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের ঢল নেমেছে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): ইট দালানের বাইরে প্রকৃতির একটু ছোঁয়া পেতে ঈদের ছুটি পেয়ে বৈরী আবহাওয়ায় কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান মাধবপুর লেকসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ঈদের দিন ও পরদিন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দুই সহস্রাধিক পর্যটকের উপস্থিতি হয়েছে এখানে। উপজেলার নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাতসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রতে দর্শনার্থীরা সে রকম উপস্থিত না হলেও লাউয়াছড়া মিশ্র চিরহরিত্ বনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করায় বিশেষত ছুটির সময় অনেক পর্যটকের আগমন ঘটে। সেইসঙ্গে যানবাহনের হুড়োহুড়ি, হল্লা চিত্কার ও লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃষ্টির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এসেছেন। বনবিভাগ ও সহব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে পর্যটকদের যে কোনো সমস্যা নজরদারিতে রেখেছেন।

সৈয়দপুর (নীলফামারী): বিনোদনপ্রেমী মানুষের ভরসা নীলফামারীর নীলসাগর। বিশেষ করে ঈদ ও যে কোনো উত্সবে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে এ বিনোদন কেন্দ্রটি। দীঘির চারিদিকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি, ইকো পার্ক, শান বাঁধানো ঘাট প্রভৃতি আকর্ষণ করে দর্শনার্থীদের। এটি জেলার সবচেয়ে বড় বিনোদন কেন্দ্র। 

গঙ্গাচড়া (রংপুর): ঈদকে ঘিরে গঙ্গাচড়ায় বিনোদন কেন্দ্র ‘ভিন্ন জগত্’ সেজেছে ভিন্ন সাজে। হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের একদল তরুণ পিকআপ ভ্যানে করে এসেছে ভিন্ন জগতে। রোকসেনা বেগম এসেছেন মহিপুর  গ্রাম থেকে। সঙ্গে এসেছেন তার তিন ছেলেমেয়ে। দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সুজন এই প্রথম এসেছে ভিন্ন জগতে।