ব্যস্ততম নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের নির্মাণাধীন ২ নম্বর প্ল্যাটফরমটি যেন মরণ ফাঁদ! সরু ও উঁচু প্ল্যাটফরম। নেই ওভারব্রিজের সঙ্গে সংযোগ সিঁড়িও। ফলে যাত্রীরা চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক করতে প্ল্যাটফরমটির নকশা পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, গত বছর রেলওয়ে স্টেশনটি আধুনিকায়নে ৩ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্ল্যাটফরমগুলো উঁচুকরণ, সীমানা বেষ্টনি নির্মাণ, বিজলি বাতি স্থাপন, প্ল্যাটফরম শেড নির্মাণ ও লুপ লাইন ও মেইন লাইনের মধ্যে ২ নম্বর প্ল্যাটফরম তৈরি।
লাইনের মাঝে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় মাত্র সাড়ে চার ফুট চওড়া ও সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার ঐ প্ল্যাটফরমটি নির্মাণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২২৫ ফুট। এ ধরনের সংক্ষিপ্ত প্ল্যাটফরমে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভিড় বাড়লে উভয় পাশে যাত্রী পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ট্রেন এলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। অনুরূপ ট্রেন থেকে নেমে আসা যাত্রীরা কীভাবে মূল টার্মিনালের দিকে যাবেন তা নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়েন। অপেক্ষাকৃত কম বয়সি যাত্রীরা উঁচু প্ল্যাটফরম থেকে লাফিয়ে নেমে রেললাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে বহির্গমন পথে যান। বয়স্ক যাত্রীদের নামাতে হয় কোলে করে। অথবা দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বহির্গমন পথে যেতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মচারী বলেন, ২ নম্বর প্ল্যাটফরমটির নকশা ত্রুটিপূর্ণ। ঐ প্ল্যাটফরমের সঙ্গে ওভার ব্রিজের সংযোগ সিঁড়িও দেওয়া হয়নি। অবশ্য তা দেওয়াও সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নকশা পরিবর্তন করে প্ল্যাটফরমটি প্রশস্ত করা উচিত এবং এর সঙ্গে সিঁড়ি দেওয়াটাও প্রয়োজন। স্টেশনের বহির্গমন গেটে রেলযাত্রী রেজাউল ইসলাম (৫৫) সঙ্গে কথা হয়।
তিনি বলেন, অনেক উঁচু প্ল্যাটফরম। এটি অতিক্রম করা খুবই কষ্টের ব্যাপার। প্ল্যাটফরমটি দেখলে মনে হবে এটি কোনো দ্বীপ বা ছিটমহল। তার মতো এনজিও কর্মী শবনম বেগম বলেন, স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফরমটি অবশ্যই প্রশস্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে স্হাপন করতে হবে সংযোগ সিঁড়ি। তা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি প্ল্যাটফরমটির নকশা পরিবর্তনের দাবি জানান।
এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ের পূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি স্বীকার করে বলেন, ২ নম্বর প্ল্যাটফরমটি যাত্রীবান্ধব নয়। সিস্টেমেটিকভাবে এটি নির্মাণ হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি ঐ প্ল্যাটফরমকে যুক্ত করে স্টেশনের পূর্ব দিকে কিছু সিঁড়ি স্থাপনের। এছাড়াও ওভারব্রিজের সঙ্গে সংযোগ সিঁড়ি স্থাপন করা যায় কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মরত স্টেশন মাস্টার আলমগীর হোসেন জানান, স্টেশনটি অত্যন্ত ব্যস্ততম। এই রুটে প্রতিদিন ১২টির মতো ট্রেন চলাচল করে। সব দিক বিবেচনায় ২ নম্বর প্ল্যাটফরমটি যাতায়াত উপযোগী করা উচিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।