পশুর হাট জমেনি, ব্যাপারিদের দেখা না পেয়ে হতাশ খামারিরা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে পশু হৃষ্টপুষ্টকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। কিন্তু ঈদের সময় ঘনিয়ে আসলেও পশুর হাটগুলো জমে না ওঠা ও কাঙ্খিত ব্যাপারির দেখা না পেয়ে হতাশ তারা। এদিকে গো-খাদ্যের দাম দ্বিগুণ বাড়ায় পশুর বাজারদর নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এবছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে উপজেলার ১ হাজার ২৫৮ জন খামারি ৫৪ হাজার পশু হৃষ্টপুষ্ট করেছেন। এর মধ্যে ষাঁড় ৭ হাজার ৯৪০টি, বলদ ২ হাজার ৫৮০টি, গাভী ৬৮০টি, ছাগল ৩৭ হাজার ৩৫৫টি, ভেড়া ৫ হাজার ৫৯২টি এবং মহিষ ৫টি। 

উপজেলার আলোকদিয়ার গ্রামের খামারি অর্ণব জানান, এবছর কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য ১৪টি ষাঁড় ও ২টি মহিষ হৃষ্টপুষ্ট করেছি। কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে গো-খাদ্যের দাম দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এতে ষাঁড়গুলো প্রস্তুত করতে খরচ অনেক বেড়েছে। গত বছর কোরবানির ঈদের এক মাস আগে থেকে ব্যাপারিরা আসতো। কিন্ত এবছর ব্যাপারির দেখা পাচ্ছি না, এমনকি স্থানীয় হাটগুলোতেও ক্রেতার দেখা নেই। তাই গরু বিক্রি ও বাজারদর নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোলাম হোসেন বলেন, ‘উপজেলায় প্রতি বছর কোরবানি ঈদের আগে ৩টি স্থায়ী ও ৬টি অস্থায়ী হাট লাগানো হয়। অস্থায়ী হাটগুলোর কর্তৃপক্ষ মাইকিং সহ ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালায়। কিন্তু এবছর অস্থায়ী হাটগুলোর তেমন প্রচার চোখে পড়ছে না। স্থায়ী হাটগুলোও জমে ওঠেনি। ধারণা করছি বন্যার কারণে অনেকে হয়তো কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে পশু কিনবেন। তবে অনলাইনে পশুর হাট অ্যাপে অনেক পশুর ছবি, বর্ণনা ও দাম দিয়ে আপলোড করা হচ্ছে।’