আমি টাঙ্গাইল থেকে একদা জয়দেবপুর রেলস্টেশনে নামার পর একজন লোক পরপর তিনবার ডাকলেও আমি সাড়া না দিয়ে চলতে থাকি। তারপর যখন একেবারে কাছাকাছি, তখন বিরক্ত করার কারণ জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি তিনি ট্রেনের লোক—টিকিট চেক করছেন। তিনি বললেন, স্যার আপনাকে ডাকে। তাঁর স্যারের সামনে যেতেই তিনি জানতে চাইলেন, আপনি টিকিট কেটেছেন? না। ভাড়া দেন। কত? ৬৫০ টাকা। এত কেন? ৩০০ টাকা ভাড়া + ৩৫০ টাকা জরিমানা। আমি টাঙ্গাইল থেকে আসছি। যেখান থেকেই আসেন যেহেতু টিকিট কাটেন নাই তাই ৬৫০ টাকা দিতে হবে। আমি একজন প্রতিবন্ধী। টাঙ্গাইল থেকে এসেছি— ভাড়া যা তার একটি রশিদ দিয়ে টাকা নিন। টিকেট নিলে ৬৫০ টাকা লাগবে। আপনি আমাকে ৫৫০ টাকা দিন। আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এবং ৭ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা— আমি কোনোমতে বুঝতে পারছি না প্রতিবন্ধী ব্যক্তির টিকেট কেন শুধু ঢাকা (কমলাপুর রেলস্টেশন) থেকে কাটা যাবে। ধরা যাক, একজন ব্যক্তি টাঙ্গাইল থেকে যশোর যাবেন। ট্রেনে তিনি যদি টিকেট কাটতে চান তাহলে ঢাকায় যেতে হবে! আবার ঢাকা যাবার পর প্রতিবন্ধী ব্যক্তির আইডি কার্ডের দুই কপি ফটোস্ট্যাট করে স্টেশন ম্যানেজারের স্বাক্ষর নিয়ে টিকেট কাটা যাবে। অনলাইন চেকিং করে যদি আইডি কার্ডের ছবি ও বাহকের ছবি এক ও অভিন্ন হয় তাহলে কেন স্টেশন ম্যানেজারের স্বাক্ষর আনতে হবে? প্রতিবন্ধীরা যাতে প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কাটতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তাজিবুর রহমান
ঢাকা