করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫০ কোটি টাকা নিট প্রফিট উপার্জন করেছে দর্শনা কেরু চিনিকল। মিলে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে ১শ ৯২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। ৭৮কোটি ৯১ লাখ টাকা সরকারের রাজস্ব ও মিলের অন্যান্য বিভাগে ৬৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় কাটিয়ে ৫০ কোটি ২৭ লাখ টাকা নিট প্রফিট অর্জন করা সম্ভব হয়েছে জানিয়েছেন চিনিকলের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, ১৯৩৮ সালে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ৫টি ইউনিট নিয়ে চিনিকল স্থাপন করা হয়। এ পর্যন্ত ৮৪ বছর বয়সী মিলটি চলমান রয়েছে। দিনে দিনে জমির পরিমাণ কমতে থাকায় আখচাষ কমেছে। তারপরও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষকেরা আখচাষ করে মিলটিকে সতেজ রেখেছেন। মিল কর্তৃপক্ষও নিত্যনতুন উপায়ে চাষের ব্যাপারে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করছেন।
গতবছর মাড়াই মৌসুম শুরু হয়েছিল ২৪ ডিসেম্বর। সে সময় ৫৪ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছিল। চিনি আহরণের গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।
কেরু চিনিকলের মহাব্যবস্হাপক (প্রশাসন) শেখ মো. শাহাব উদ্দিন জানান, এ বছরের জুনের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের বোর্ড সভার হিসাবমতে কেরু চিনিকলের উৎপাদিত চিনি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ভিনেগার, বায়োফার্টিলাইজার, দেশীয় লিকার স্পিরিটসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি শেষে নিট প্রফিট হয়েছে ৫০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লাভ।
কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন এ সাফল্যে সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরোশন চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু সহ সকল আখচাষী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। চিনি কারখানার বিএমআর (আধুনিকায়ন) কাজ শেষ হলে আয় আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।