টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছেই। গতকাল সোমবার ব্রক্ষ্মপুত্র, যমুনা, সুরমা, কুশিয়ারা, ঘাঘট ও খোয়াই নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপত্সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দেশের উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় বন্যার পর দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও সার্বিক অবস্থার উন্নতি নেই। বিভিন্ন স্থানে টিলা ধসের ঘটনা ঘটছে।
সিলেট বিমান বন্দরের রানওয়ে থেকে পানি নামলেও এখনো বিমান চলাচল শুরু হয়নি। চারদিন পর সুনামগঞ্জের অর্ধেক এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়েছে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয় কেন্দ্রে। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও বাসাবাড়িতে আটকে পড়া বানভাসি মানুষেরা বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, ওষুধ, মোমবাতি ও জ্বালানি সংকটে ভুগছেন। বিশেষ করে শিশু খাদ্য ও দুধের সংকটে মায়েরা চরম বিপাকে। যারা বাসা-বাড়িতে রয়ে গেছেন চুলা ডুবে থাকায় রান্না করতে পারছে না। আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো খাবার খেয়ে কোনোরকমে দিন পার করছেন বানভাসীরা। দেখা দিচ্ছে নানা রোগ বালাই। বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর
সিলেট অফিস থেকে হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী জানান, সিলেট ও সুনামগঞ্জ শহরে কোনো কোনো সড়ক থেকে বন্যার পানি কিছুটা নামলেও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি নেই। এখনো ঘরে দুয়ারে পানি। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। সিলেট নগরীর উপশহর টইটুম্বুর। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার ৯০ ভাগ মানুষ এখনো পানিবন্দি। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের অবস্থা ভয়াবহ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, আগামী দুএকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা দেখছি না। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি থামলে এখানে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে। কারণ নিচের দিকে পানি কম কাটছে। অন্যদিকে গত শুক্রবার থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বন্যাকবলিতদের উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। বানভাসী মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগেও বিভিন্ন স্থানে শুকনো খাবার ও খিচুরি দেওয়া হচ্ছে।
সিলেটের সঙ্গে সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। উপজেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র বাহন নৌকা।
সিলেটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ গত রবিবার চালু হয়েছে। কিন্তু ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে পানি নামলেও এখনও রানওয়ের এপ্রোচ লাইট জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না।
বিমানবন্দর পরিদর্শনে এসে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, রানওয়েতে পানি ঢুকলেও ওসমানী বিমানবন্দরের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এখন রানওয়েতে পানি নেই, তবে এপ্রোচ লাইটগুলো এখনও তলিয়ে আছে। যে কারণে সেফটির জন্য এখনও সিলেট এয়ারপোর্ট থেকে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। এপ্রোচ লাইটগুলো পানিমুক্ত হলে যত দ্রুত সম্ভব ফ্লাইট ওঠা-নামা শুরু হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর মোট ১৩টি ব্যাটালিয়ন উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৬০টি বোট উদ্ধার, চিকিৎসা, ত্রাণ, নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ণ ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহে নিয়োজিত আছে। নৌবাহিনীর ১০০ জন সদস্য ১২টি নৌকা নিয়ে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে রয়েছে।
তিনি জানান, বন্যার্তদের খাবারের ব্যবস্থা করা এখন মূল চ্যালেঞ্জ। মানুষ কষ্টে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ত্রাণের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত চাল ও অর্থ রয়েছে। খাদ্যগুদাম গুলোর সামনে পানি। ত্রাণ বিতরণ এখন পর্যন্ত শুকনো খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু, বৈরী পরিবেশের কারণে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, প্রশাসনসহ সবার প্রচেষ্টায় মানুষ নিরাপদ অবস্থানে চলে এসেছে। এ জেলায় কেউ অসুস্থ হবার সংবাদও আমরা পাইনি। গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নগরীর বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু করা হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্কও সচল করার পদক্ষেপ চলছে।
সিলেটের এমসি কলেজে গত শুক্রবার টিলা ধসে পড়ে। পরে বাশ পাইলিং করে তা ঠেকানো হয়। গত মাসেও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে টিলা ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
- সুনামগঞ্জে ৫০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চার দিন পর সোমবার বিকাল ৫ টা ৪৫ মিনিটের দিকে শহরের ৫০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। হাসপাতাল, জেল, ডিসি অফিস ও সদর থানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, শহরের ৫০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পেরেছি। গুরুত্বপূর্ণ অফিস গুলোতে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। আরও এলাকায় দেওয়ার জন্য কাজ করছি। তবে যে এলাকার পানি এখনও নামেনি ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরে স্বাভাবিক করা হবে ।
- নেত্রকোনার ৪ হাজারের বেশি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। জেলার ১০ উপজেলার ৬২ ইউনিয়নে ৩ লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। জেলার চার হাজারের অধিক পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। গত রবিবার মোহনগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে আমিনুল ইসলাম মুন্সী (৫১) নামে এক কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। তার বাড়ি মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ সহিলদের ইউনিয়নের রামজীবনপুর গ্রামে । নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত জানান, সোমেশ্বরী, উদ্ধাখালী, ধনু ও কংশসহ সব কটি নদীর পানি কিছুটা কমেছে। জেলার খালিয়াজুরীতে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। প্রতিটি উপজেলায় সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবারের।
- যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। ৪ উপজেলায় ৩৪টি ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খোয়াই নদীর পানি সীমান্ত সংলগ্ন বাল্লা পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪৭ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জ সদরে মাছুলিয়া পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। যেকোনো সময় শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যেতে পারে এ আশংকায় শহরবাসীকে সর্তক থাকার জন্য মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। এদিকে কুশিয়ারা নদীর পানিও বেড়ে যাওযায় নবীগঞ্জ ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লুকড়ায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে পানি হবিগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করছে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ নদ- দীর পানিও। সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার পুঠিয়াবাড়ি, চরমালশাপাড়, কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের চররামগাঁতী, পাইকপাড়া, মোড়গ্রাম, সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর, পূর্ব বাঐতারাসহ বাঁধের ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে । প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। করোতোয়া, ফুলজোড়, ইছামতি, বড়ালসহ বিভিন্ন নদ-নদী খাল বিলের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সয়দাবাদ ইউনিয়নের তাঁত কারখানাগুলোয় পানি উঠায় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে ।
- কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গতকাল দুপুরের পর থেকে মনু নদীর পানি হঠাৎ বাড়ায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এদিকে কুশিয়ারা নদীর পানিও বাড়ছে। বন্যায় জেলার ৫০ ইউনিয়নের ৫০০ গ্রামের ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্নস্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষ বাড়ি-ঘড় ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র খুঁজছেন। পানি প্রবেশ করায় ইতিমধ্যে কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলায় কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ রয়েছে।
হাকালুকি হাওরের তীরবর্তী ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদীপুর, মীরশংক, গৌরিশংকর, কালেশারসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, সোমবার সকাল থেকে পানি বাড়ার কারণে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে গাইবান্ধা পাউবো । জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের ৫৯টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
- মুহুরী নদীর বাঁধে ভাঙন
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীর ফুলগাজীতে ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সোমবার সকালে মুহুরী নদীর উত্তর দৌলতপুর ও দরবার পুরে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে দুই গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।
অপরদিকে ভারী বর্ষণে ফুলগাজী বাজারের গার্ডওয়ালের ভেতর দিয়ে মুহুরী নদীর পানি পÌবেশ করে ফুলগাজী বাজার প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়ায় ডুবছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলি জমি।
- লালমনিরহাটে বাঁধগুলো চরম ঝুঁকিতে
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, তিস্তা ও ধরলার পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকাসহ চরাঞ্চল গুলোতে বন্যার পনি প্রবেশ করে প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি সংকট। জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে ধরলা নদীর তীববর্তী সদর উপজেলার মোঘলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। আদিতমারীর সলেডি স্প্যার বাঁধ-২ ডুবে যাওয়ায় সড়কটির অর্ধেকাংশ ধসে গেছে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। জেলার ৯টি উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নের প্রায় সোয়া দু’লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিতদের মাঝে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও বানভাসীদের মধ্যে পানিবাহিত চর্ম, ডায়রিয়া, জ¦র দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে রবিবার দুপুরে রৌমারী উপজেলার যাদুর চর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাঁন্দাপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমানের দেড় বছরের ছেলে সিয়াম বন্যার পানিতে পড়ে মারা গেছে।
ভুঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পানিবিন্দ সেখানকার মানুষজন। চরম দুভোর্গের পাশাপাশি সংকট দেখা দিয়ছে বিশুদ্ধ পানির। ঘরবাড়ি ও আশপাশে পানি প্রবেশ করায় গবাদি পশু নিয় বিপাকে রয়েছে খামারীরা। দেখা দিচ্ছ গো-খাদ্যের অভাব। এছাড়াও নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর ও বাসাইল উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১১৫টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সোমবার বিকালে যমুনার পানির স্রোতে ভুঞাপুর উপেজলার গোবিন্দাসী-ভালকুটিয়া সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ৬ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার ৭টি উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই দিন ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের পশ্চিম বামনা ঘোনাপাড়ার এলাকার বাসিন্দা আলম মিয়ার শিশুকন্যা আরিফা আক্তার পনিতে ডুবে মারা গেছে। অপর দিকে ইসলামপুর গংগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ধলা মিয়ার ছেলে ময়না মিয়া(৩০) বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুত্তায়িত হয়ে মারা গেছেন।
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, যমুনার পানি বিপত্সীমার ৫৪সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার চুকাইবাড়ী গুচ্ছগ্রাম, চিকাজানি, বাহাদুরাবাদ, পাররামরামপুর, চরআমখাওয়া, হাতীভাঙ্গা সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনিয়নের ৬০টি গ্রামের মানুষ। তিন দিনে চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সবুজপাড়া, লম্বাপাড়া, হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম কাঠারবিল, সবুজপুর ও গয়ার ডোবা এলাকার নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে।
- যমুনার স্রোতে ভেঙে গেল রাস্তা
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) : সোমবার ভোরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দিমুখী একটি কাঁচা রাস্তার ২০০ মিটার ভেঙে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশায় রিছিল বলেন, যমুনা নদীর পানির তীব্র স্রোতে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাটির ২০০ মিটার ভেঙে গেছে।
- পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া রুটে ফেরি-লঞ্চ চলাচল ব্যাহত
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, ঘিওর, শিবালয়, হরিরামপুর ও সিংগাইর উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী দু’দিন পানি বৃদ্ধির আভাস রয়েছে। পদ্মা-যমুনার তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের মধ্যে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে ফেরি-লঞ্চ, কার্গো, স্পিড বোট, নৌকা ইত্যাদি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
- বানভাসী মানুষের পাশে বিজিবি
বানভাসী অসহায় জনগোষ্ঠীর উদ্ধার তৎপরতা, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও জরুরি চিকিৎসা সেবা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল বিজিবি’র ৪৮, সিলেট ব্যাটালিয়নের তত্বাবধানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বন্যাদুর্গত শিমুলতলা গ্রামের ২৫০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে বিজিবি। ২৮, সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের তত্বাবধানে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বন্যাদুর্গত ২০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে। এসময় বিজিবির সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বন্যাদুর্গত প্রায় ৪০০ জনকে বিজিবির একটি চিকিৎসক দল চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দিয়েছে। ১৯, বিজিবি জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন লালাখাল এলাকার নিশ্চিতপুর ও লালাবস্তি গ্রামে আটকে পড়া ২২টি পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াসহ তাদের ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে।