সম্পত্তির লোভে বোনকে পাগল বানিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার চামড়াব গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে গতকাল শনিবার সকালে পলাশ থানা পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে শিকলে বাঁধা অবস্থায় স্মৃতিকে (১৮) উদ্ধার করে। পরে তাকে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্মৃতির ভাই রনি পাল পালিয়ে যায়। এ সময় স্মৃতির চাচা রিপন পালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে। স্মৃতি পৌর এলাকার চামড়াব গ্রামের মৃত দেবেশ চন্দ্র পালের মেয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়- ঘোড়াশাল পৌর এলাকার চামড়াব গ্রামের দেবেশ চন্দ্র পাল প্রায় ৮ বছর পূর্বে ও তার স্ত্রী বিনা রানী পাল প্রায় ৫ বছর আগে মারা যায়। তাদের রেখে যাওয়া প্রায় ১২০ শতাংশ জমি একমাত্র ছেলে রনি পাল ও একমাত্র মেয়ে স্মৃতি পাল ভোগ করে আসছিল। স্মৃতি রানী পাল ২০১৮ সালে পলাশের রাবন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। রনি পাল সকল সম্পত্তি একা ভোগ করার জন্য বোনকে পরে কোনো কলেজে ভর্তি না করিয়ে পাগল বানানোর চেষ্টা চালায়। গত এক মাস ধরে তাকে একটি রুমে খাটের সঙ্গে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরের দরজা-জানালা, পাখা ও বাতি বন্ধ করে অন্ধকারে ফেলে রাখে। মাঝে মধ্যে রনি স্মৃতিকে মানসিক নির্যাতন চালাতে ইনজেকশন এবং বিভিন্ন ঘুমের ওষুধ খাওয়াতো বলে স্মৃতি জানায়। এই এক মাসে তাকে তিন বেলা ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয়নি। এ সুযোগে রনি পাল তার চাচা রিপন পালের শ্যালক পৌর এলাকার ভাগদী গ্রামের বাসিন্দা অপু পালের কাছে তার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রির উদ্দেশে ৪০ লাখ টাকা বায়না করে। বাকি টাকা নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়িসহ জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল বলে চাচা রিপন পাল জানান। পলাশ থানার ওসি মকবুল হোসেন মোল্লা জানান, স্মৃতি রানী পাল পুরোপুরি সুস্থ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।