নরসিংদীর শিবপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, রংপুরের মিঠাপুকুরে স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনমজুর রাকিবুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এছাড়া আখাউড়ায় এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে তাঁর স্বজনরা একে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে দাবি করলেও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের হয়েছে। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
নরসিংদী প্রতিনিধি : পারিবারিক কলহকে কেন্দ করে নাজমা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে শিবপুর উপজেলার কারাচর গ্রামে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নাজমা বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম ঐ গ্রামের মো. হাফিজ উদ্দিনের বাড়িতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। গার্মেন্ট কর্মী নজরুলের অভাবের সংসারে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। ঘটনার দিন রাতে নজরুল তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগমের কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। নাজমা অপারগতা প্রকাশ করলে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নজরুল দা দিয়ে নাজমার গলা কেটে হত্যা করে বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যান। ভোরে নাজমার আট মাস বয়সি সন্তানের চিত্কারে আশপাশের লোকজন এসে দরজা খুলে এই দৃশ্য দেখতে পায়। পরে বিষয়টি শিবপুর থানাপুলিশকে অবহিত করার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা :রংপুরের মিঠাপুকুরে দিনমজুর রাকিবুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর
শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও এলাকবাসী জানায়, উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের খোড়াগাছ মোড়লপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে রাকিবুল প্রায় ২০ বছর আগে একই গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে মোখতারা বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে। রাকিবুল দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি নেমে আসে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। এর জের ধরে ঈদের দিনে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এ খবর পেয়ে গভীর রাতে শ্বশুর নজরুল ইসলাম, ইয়াসিন আলিসহ কয়েকজন রাকিবুলের বাড়িতে ঢোকে। এরপর তাঁর হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। তাঁর চিত্কারে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান রাকিবুল। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
আখাউড়া (ব্রা??হ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সুমি আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় আত্মত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন ঐ গৃহবধূর বাবা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
সুমি আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের মা। গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তাঁর বাবা কবির মিয়ার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। লাশটি কসবায় বাবার বাড়ির গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সুমির স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুমন তাঁর স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। প্রায়ই বাবার বাড়িতে এসে থাকতেন সুমি। প্রতিনিয়তই পরিবার থেকে ভরণপোষণের জন্য নগদ টাকা ও কাপড় কিনে দিতেন তাঁর মা-বাবা।
ঈদের আগের দিন বাবার বাড়িতে এলে তাঁর ছেলেমেয়েদের জন্য ঈদের কেনাকাটা করে দেন তারা। ঐ দিন বিকালেই স্বামীর বাড়িতে চলে যান সুমি। স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর চলে নির্যাতন। ঈদের পরদিন সুমির ছোট বোন রুমা ও তার এক ভাই তাঁকে দেখতে তাঁদের বাড়িতে যায়। বোনের কাছে সব কষ্টের কথা বলেছিলেন সুমি আক্তার। পরদিন সকালে তারা কসবায় বাবার বাড়িতে ফিরে আসে। সুমি থেকে যান স্বামীর বাড়িতে।
শুক্রবার সকালে সুমির লাশ ঘরের মধ্যে ঝুলছিল। কিন্তু খবরটিও তাঁর বাবার বাড়ির লোকজনের কাছে দেওয়া হয়নি। অন্য বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে এ খবর জানতে পেরে সুমির বাবার বাড়ির লোকজন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পায় তাদের মেয়ের লাশ ঝুলছে। পাশেই খেলছে ছোট ছেলে ও মেয়ে। বাড়িতে কেউ নেই।
খবর পেয়ে আখাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে মেয়ের স্বামী সুমন মিয়া, দেবর, ভাশুর, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন।