উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’
এর আগে শনিবার (২১ জুন) সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার পুঠিয়াবাড়ি, চরমালশাপাড় কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের চররামগাঁতী, পাইকপাড়া, মোড়গ্রাম, সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর এবং পূর্ব বা ঐতারা বাঁধের অভ্যন্তরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
এছাড়া জেলার অভ্যন্তরীণ করতোয়া, ফুলজোড়, ইছামতি, বড়ালসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের ও জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
যমুনা নদীর পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানের নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এতে তিল, কাউন, বাদাম, পাট ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ডুবে গেছে।
এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান জানান, বন্যাদুর্গত বানভাসি মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যেই ৯১১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২২ লাখ টাকা এবং ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
এরমধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, রেলকুচি, চৌহালিও শাহজাদপুর উপজেলায় বানভাসি মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য বন্যাদুর্গত নিজ নিজ এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চাওয়া হয়েছে।