চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং রমজান মাসে পূর্বের বছরের তুলনায় বেড়েছে। এর আগে সাধারণত দেখা যেত রমজান মাসে হ্যান্ডলিং কমে যায়। কিন্তু গত দুই বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে বেশ কিছু হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংযোজন করায় উত্পাদনশীলতা বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষ করে গ্যান্ট্রিক্রেন আসায় হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আরো একাধিক গ্যান্ট্রিক্রেনসহ বিভিন্ন ধরনের ইকুইপমেন্ট শিগগিরই বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানা যায়।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৭ সালের রমজান মাসে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল এক লাখ ৭০ হাজার ১৩৩টি। ২০১৮ সালের রমজান মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ আট হাজার ১৭টি এবং ২০১৯ সালের রমজান মাসে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ৬০৫টি। ২০১৭ সালের রমজান মাসে গড়ে প্রতিদিন কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল পাঁচ হাজার ৬৭১টি। ২০১৮ সালে হয়েছিল গড়ে প্রায় ছয় হাজার ৯৩৪টি। অপরদিকে এবার ২০১৯ সালের রমজান মাসে প্রতিদিন কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয় গড়ে প্রায় সাত হাজার ৯১৫টি। অপরদিকে খোলা পণ্য বা বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ রমজান মাসে পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৮ সালের রমজান মাসে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ৪৬ লাখ ১৩ হাজার ২৯১ টন। অপরদিকে ২০১৯ সালের রমজান মাসে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৯৫ টন।
চট্টগ্রাম বন্দরের বছরের পরিসংখ্যান দেখলে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৯ লাখ তিন হাজার। অথচ পূর্ববর্তী ২০১৭ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৬ লাখ ৬৭ হাজার। ২০১৮ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রবৃদ্ধি শতকরা প্রায় ৯ ভাগ। অন্যদিকে কার্গো হ্যান্ডলিং খাতে প্রবৃদ্ধি শতকরা ১৩ ভাগ। চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ৩০ বছর মেয়াদী যে টার্গেট ধরা হয়েছিল তাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, আগামীর বন্দর হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে এর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও এগিয়ে চলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের পুরাতন ইয়ার্ড ভেঙে নতুন ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেইনার রাখার সক্ষমতা ৫০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। তাছাড়া মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা টার্মিনাল, লালদিয়া ও কর্ণফুলী টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে বলে বন্দর চেয়ারম্যান জানান।
বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান, শুধু বে-টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মিত হলে আগামী অর্ধশত বছরে বন্দর তথা দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।