নির্মাতারা কাস্টিংয়ের জন্য আত্মীয় বা প্রেমিকাদের আগে সিলেক্ট করেন: তমা মীর্জা

‘ওটিটি প্লাটফর্ম ছাড়া নিজেকে আবার প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যেত। কারণ আমি মনে করি ওটিটি প্লাটফর্মে পেশাদারিত্বর জায়গাটা এখনও আছে।’—বর্তমান চলচ্চিত্রের এই মহামন্দা প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান জানাতে বলেন তমা মীর্জা । পরপর দুটি ওয়েব ফিল্ম মুক্তি পেয়েছে দুটি ওটিটি প্লাটফর্মে। 

তবে কী ফিল্মের কাজ আর করবেন না এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী? এমন প্রশ্নে তমা মীর্জা বলেন, ‘আমি তো এফডিসি ঘরানার নায়িকা। সেখান থেকেই তো কাজ করে এসেছি। তবে আমার একটা প্রশ্ন, কবে আমাদের দেশে ফিল্মে স্ক্রিনটেস্ট হয়েছে বলুন তো? আমার কাছে এমন কিছু ছবির অফার এসেছে, যে ছবি হিট হয়ে যাবে, আমরা খুব জলদি গানের শুটে যাবো। আমিই মূল নায়িকা। এই কথাই চলতে থাকে। কিন্তু হাতে আর স্ক্রিপ্ট আসে না। ফিল্মে এখন নায়িকারা হয় নিজে প্রডিউস করছেন, নয়তো কোনো প্রডিউসার জোগাড় করে এনে নায়িকা হচ্ছেন। এই ইন্ডাস্ট্রিতে পেশাদারিত্বের কোনো জায়গা নেই!’ চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি এই ক্ষোভের পাশাপাশি তমা মীর্জা নিজের ক্যারিয়ারের আশার গল্পও শোনান। 

তমা বলেন, ‘আমি এখন ওটিটিতে কাজ করেই সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দবোধ করছি। কারণ এখানে কেউ কাজের বাইরে ডিস্টার্ব করে না। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবাইকে বলবো না। অধিকাংশেরই কাজের বাইরে নানা আগ্রহ ও অসৎ চিন্তার কারণেই আজ এই অবস্থা। কই আমার সাত নম্বর ফ্লোর ছবিটা তো সকলেই পয়সা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করেই দেখেছেন! তাহলে সিনেমা হলে কেন মানুষ নেই? আপনি ভালো ছবি দেন। হলে প্রথম তিনদিন মানুষ কম থাকবে । কিন্তু যারা দেখবেন মুগ্ধ হলে তারাই ক্যাম্পেইন করে হলে অন্যদের নিয়ে আসবেন। তখন আপনি জায়গা দিতে পারবেন না। কিন্তু এখানে তো যে যেসব চরিত্রের জন্য ফিট তাকে নেওয়া হচ্ছে না। নির্মাতারা কাস্টিংয়ের জন্য আত্মীয় বা প্রেমিকাদের আগে সিলেক্ট করেন। কীভাবে ভালো ছবি হবে?’ খুব জলদি আরও কিছু নতুন ওয়েব ফিল্ম আসছে। হৈচৈ-এর ব্যানারেও একটা কাজের ব্যাপারে কথা চলছে তমা মীর্জার। তমা বলেন, ‘ব্যক্তিজীবনে এত বড় ঝড় ঝাপটার পর নিজেকে আবার কাজে ফেরাতে পেরেছি, এটা একমাত্র আমার দর্শকদের ভালোবাসার কারণে। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।