কাজী মারুফ। এক সময়ের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক এখন পরিবার নিয়ে আমেরিকায় বাস করছেন। তবে প্রবাসে থেকেও দেশের চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা কমেনি তার। সম্প্রতি শেষ করেছেন নতুন একটি সিনেমার কাজ। নতুন সিনেমা, দেশ ছাড়ার কারণসহ নানা বিষয় নিয়ে তানভীর তারেক-এর সঙ্গে অনলাইন আড্ডায় কথা বললেন তিনি।
পরিবার নিয়ে প্রবাস যাপন করছেন। সব মিলিয়ে কেমন আছেন?
পরিবারের সবাইকে নিয়ে আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি। তবে পীড়া দিচ্ছে, সিলেট বন্যার পানিতে ডুবে গেছে, সেখানের মানুষ কষ্টে আছে! দেশের মানুষ কষ্টে থাকলে তো খারাপ লাগেই।
আপনার ‘গ্রিনকার্ড’ সিনেমাটি কবে নাগাদ পর্দায় আসবে?
সিনেমাটির শুটিং শেষ করেছি। আমার ডাবিংও শেষ হয়েছে, কিন্তু দু-তিনজন আর্টিস্টের ডাবিং বাকি রয়েছে। সেটা শেষ করে আশা করছি আগামী মাসেই বাংলাদেশে নিয়ে যেতে পারব। আসলে ছবিটি আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্নে লালিত। জান-প্রাণ দিয়ে করার চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস দর্শকদের ভালো কিছু দিতে পারব।
‘গ্রিনকার্ড’ সিনেমার প্রযোজক-নির্মাতা নিয়ে নানা গুঞ্জন আমরা শুনতে পেয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
দেখুন, সিনেমাটির কাহিনি, স্ক্রিপ্ট, সংলাপ ও প্রযোজনা আমার নিজের। সিনেমাটি অনলাইনে পরিচালনা করেছেন কাজী হায়াত্। যেহেতু এখানে সামনে একজন নির্মাতা প্রয়োজন ছিল তাই আমরা অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর হিসেবে রওশনারা নিপাকে নিয়েছিলাম।
কিন্তু রওশনারা নিপার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস সবাইকে বিভ্রান্ত করেছিল। এটা কোনো স্ট্যান্ট ছিল কি-না?
আমি কোনো নেগেটিভ প্রচারণাকে স্ট্যান্ট মনে করি না। আমার কাছে নেগেটিভ পাবলিসিটি সবসময়ই নেগেটিভ। তাছাড়া নিপা আন্টির সঙ্গে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।
অভিনয় থেকে অনেকেই নির্মাণে আসেন। সেই জায়গায় মারুফের কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না?
এতদিন কোনো ইচ্ছে ছিল না। তবে এখন বলছি, শিগগিরই নির্মাণে নাম লেখাবো।
সম্প্রতি আশিষ বিদ্যার্থীর সঙ্গে আপনার হাস্যোজ্জ্বল কিছু ছবি দেখে অনেকেই বলছেন নতুন কোনো প্রজেক্ট হয়তো আসছে। আসলে বিষয়টি কী ছিল?
এখন অবধি আমার ‘গ্রিনকার্ড’ সিনেমায় তাকে নিয়ে কোনো চমক বা নতুন কোনো সিনেমার খবরে নেই। আমরা একসঙ্গে ডিনার করেছি মাত্র। হিল্লোল ভাই ওনাকে নিয়ে এসেছিলেন এবং আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। সেখানেই ছবিগুলো তোলা হয়েছে। তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করব কি-না সেটা পরে চিন্তা করব।
অনেকেই বলেন, সিনেমা মুক্তি না দিতে পেরে দেশ ছেড়েছেন! বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?
বিয়ের পর আমার বউ অনেকবারই আমেরিকা আসার কথা বলেছে। কিন্তু আমি কখনোই আসতে চাইনি। তবে একটি ঘটনার পর আমার আব্বা আমাকে বললেন, চলে যাও, আর দেশে থেকো না। ‘ছিন্নমূল’ সিনেমাটি জাজ মাল্টিমিডিয়া রিলিজ করতে দিচ্ছিল না। কাকরাইল থেকে সেই যে চোখের জল ফেলে এসেছি আর কখনো যাইনি। আমি জানি সিনেমাটি লস করবে, তবু খারাপ দিনে রিলিজ দিকে বাধ্য হয়েছিলাম। তখন বাবা বললেন, এই বয়সে আর যুদ্ধ করতে চাই না, আমেরিকা চলে যাও আর এসো না। আমার বাবা যা বলে আমি তা-ই করি। তবে আমেরিকা দূর থেকে অনেক সুন্দর কিন্তু ভেতরটা কী। এই বিষয়টি আমার গ্রিনকার্ড সিনেমায়ও দেখতে পাবেন।