স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাজসাজ রব দেখা গেছে। কোথাও পদ্মা সেতুর ম্যুরাল, কোথাও ব্যানার-পেস্টুনে ছেয়ে গেছে।
শুক্রবার (২৪ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা (টিএসসি), মতিঝিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে সজ্জিত করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে সুসজ্জিত করা হয়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয় সড়কও। অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা বার্তার ব্যানারে ছেয়ে গেছে এক্সপ্রেসওয়েটি। এছাড়া সেতুটির দু’পাড়েও সাজসজ্জায় পরিপূর্ণ।
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই উদ্বোধন করা হবে পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সর্ববৃহৎ এই সেতু উদ্বোধন করবেন। সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে একটি জনসভা হবে।
জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশের জন্য সাড়ে তিন হাজার আমন্ত্রণপত্র তৈরি করা হয়েছে। এ আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হচ্ছে।
সেতুর উদ্বোধনের পর জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সভার মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে সেতুর আদলেই। মঞ্চের ঠিক সামনে পানিতে ভাসতে থাকবে বিশাল আকৃতির একটি নৌকা। তার পাশে ১১টি পিলারের ওপর ১০টি স্প্যান বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মঞ্চ। দেখে মনে হবে সেতুর পাশ দিয়ে বড় একটি নৌকা চলছে।
দশ লক্ষাধিক মানুষের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী ৫শত টয়লেট, ভিআইপিদের জন্য থাকছে ২২টি আলাদা টয়লেট। রয়েছে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা। সুপেয় পানির জন্য থাকছে অসংখ্য পানির ট্যাপ। নারীদের জন্য আলাদা বসার জায়গা, তিনটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল, সভাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানের দর্শকদের জন্য থাকছে ২৬টি এলইডি মনিটর, ৫০০ মাইকসহ অত্যাধুনিক সাউন্ডসিস্টেম।
দুর্নীতির চেষ্টার ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বিশ্ব ব্যাংকের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, রাজনৈতিক বাদানুবাদ, গুজবসহ নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে এখন সগর্বে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘতম সেতু।