চীনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ব্রিকস সম্মেলন। সেখানে রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নতুন বাণিজ্যের রাস্তা তৈরি করতে চেয়েছেন তিনি।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং সাউথ আফ্রিকাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্রিকস। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) চীনে এই দেশগুলোর সম্মেলন বার্ষিক শুরু হয়েছে। সেখানে ভিডিওর মাধ্যমে বক্তৃতা দিয়েছেন পুতিন। পশ্চিমা দেশগুলোকে এক হাত নিয়ে পুতিন ব্রিকস দেশগুলোর কাছে রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুরো বিশ্বে সংকট তৈরি করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। ব্রিকসের দেশগুলো এক বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে।
ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা চালানোর পর ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ছয় দফায় নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ জারি করেছে। সপ্তম প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব বিশ্বেই কমবেশি অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। আফ্রিকায় শুরু হয়েছে খাদ্য সংকট। কারণ, কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।
রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরে মাইন পেতে রেখেছে বলে তারা সেখানে অবরোধ তৈরি করেছে। কোনো জাহাজকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, ইউক্রেনের দাবি রাশিয়া অবরোধ তৈরি করে রেখেছে বলেই খাদ্যশস্য বোঝাই জাহাজ আফ্রিকার দিকে যেতে পারছে না।
এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে পুতিন বলেছেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে কোণঠাসা করতে চাইছে। কিন্তু এর ফলে পুরো বিশ্বে সংকট তৈরি হচ্ছে। এর দায় পশ্চিমকে নিতে হবে। গোটা পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ী করে পুতিন বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর স্বার্থসিদ্ধির কারণেই আজ এই পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়েছে।
এই অবস্থায় পুতিন বলেছেন, এক বিকল্প পথ গড়ে তুলতে হবে। এবং সেখানেই ব্রিকস দেশগুলোর সাহায্য প্রয়োজন। তারা রাশিয়ার পাশে থাকলে অর্থনীতির এক বিকল্প পথ গড়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রিকস দেশগুলো সরাসরি রাশিয়ার সমালোচনা করেনি। ইউরোপ রাশিয়ার তেল নেওয়া অনেকটাই বন্ধ করে দিলেও রাশিয়া একাধিক ব্রিকস দেশকে তেল বিক্রি করছে। বিশ্ব বাজারে এখনো পর্যন্ত রুবলের দাম পড়েনি।