আম খাওয়ার পর পরিত্যক্ত আঁটি কিছুদিন ফেলে রাখলে তা শুকিয়ে যায়। তখন দুদিকের শক্ত খোসা ছাড়িয়ে নিলে ভেতরে এক ধরনের নরম কষি পাওয়া যায়, তার একপ্রান্ত দেয়ালে বা থামে বা বেড়ার গায়ে একটু ঘষে নিলে যে বাঁশি তৈরি হয়, তাকে আম আঁটির ভেঁপু বলে। এই বাঁশি গ্রামবাংলার ছেলেমেয়েদের সরল আনন্দের প্রতীক। গ্রামের শিশুরা এই বাঁশির প্রাঞ্জল সুরের মূর্ছনায় তাদের আবেগজড়িত সুখ-দুঃখ প্রকাশ করে। শহরের ছেলেমেয়েরা এই বাঁশি বাজানোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত। এটি বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা হতো কোনো এককালে। তখন গ্রামের প্রতিটি ছেলেমেয়ের হাতে শোভা পেত এই আম আঁটির ভেঁপু। সাম্প্রতিককালে তার স্থান দখল করে নিয়েছে কৃত্রিম প্লাস্টিকের বাঁশি, যার সুর মন কাড়ে না। হারিয়ে গেছে সেই সুর, সেই বাঁশি। আজ গ্রামের কোনো প্রান্তরে সে সুরের ধ্বনি শোনা যায় না।