চট্টগ্রামে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিএনপি প্রার্থীরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন চট্টগ্রামের বিএনপি প্রার্থীরা। মামলার কারণে সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে চট্টগ্রামে অধিকাংশ আসনেই একাধিক প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার অনুমতি দিয়েছে বিএনপি। তবে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক কার ভাগ্যে জুটবে তা নিয়ে প্রার্থীরা চরম টেনশনে পড়েছেন। বিএনপি নেতারা বলেন, চট্টগ্রামের অনেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। মামলার কারণে সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে কেন্দ্র থেকে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে দলের নির্দেশ পাওয়ার পর এদের মধ্যে অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াবেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে মাত্র দু’টি আসনে একক প্রার্থী বিএনপির দলীয় টিকেট পেয়েছেন। এছাড়া দু’টি আসন রাখা হয়েছে ২০ দলীয় জোট প্রার্থীদের জন্য। বাকি ১২টি আসনেই দুই বা তিনজন করে প্রার্থী বিএনপির টিকেট পেয়েছেন। একক মনোনয়ন পাওয়া বিএনপি নেতারা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে এবং জাফরুল ইসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের জন্য দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন দু’টি ২০ দলীয় জোটের জন্য রাখা হয়েছে। এ দু’টি আসনে যথাক্রমে এলডিপি প্রধান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ ও জামায়াত নেতা মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম সম্ভাব্য প্রার্থী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে থেকে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে গতকাল বুধবার পর্যন্ত যারা মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন তারা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) নুরুল আমিন, মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, কামাল উদ্দিন আহমেদ ও শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, কর্নেল (অব:) আজিমউল্লাহ বাহার ও মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মোস্তফা কামাল পাশা ও নুরুল মোস্তফা খোকন। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসলাম চৌধুরী, এওয়াইবি সিদ্দিকী ও ইসহাক কাদের চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) মীর মো. নাসির উদ্দিন, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) সামির কাদের চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ফরিদা আক্তার ও জসিম সিকদার। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) কুতুবউদ্দিন বাহার, শওকত আলী নূর ও আবু আহমেদ হাসনাত। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) এম মোরশেদ খান, আবু সুফিয়ান ও এরশাদউল্লাহ। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) ডা. শাহাদাত হোসেন, শামসুল আলম, আবুল হাশেম বক্কর ও সাইফুল ইসলাম। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আবদুল্লাহ আল নোমান ও মোশাররফ হোসেন দীপ্তি। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) এনামুল হক এনাম ও গাজী শাহজাহান জুয়েল। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) সরওয়ার জামাল নিজাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া- লোহাগাড়া) জোটের জন্য রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।

ইত্তেফাক/আরকেজি