পিরোজপুরের নাজিরপুরে পিন নম্বর জটিলতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কিট এলাউন্স ও উপবৃত্তির টাকা তুলতে না পারায় বিপাকে পড়েছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
অভিভাবকেরা জানান, নগদ-এ উপবৃত্তির টাকা পাঠানোর সময় উত্তোলনের পিন নম্বর মেসেজে দেওয়া হয়নি। এতে টাকা তুলতে পারছেন না তারা। কারও পিন নম্বর জানা থাকলেও, তা সঠিক নয় বলে ফিরতি মেসেজ আসছে। পিন নম্বর পুনরায় দিতে (রিসেট) গেলে শেষ ৩ মাসের লেনদেনের মোবাইল সিম নম্বর জানতে চায়। কিন্তু অনেকের নগদ অ্যাকাউন্টে কোন লেনদেন করা হয়নি। তাই বিকল্প প্রস্তাবে (অপশন টু) গেলে ‘সামথিং ওয়ান্ট রং, প্লিজ কল ১৬১৬৭ ফর ইনফরমেশন’ দেখাচ্ছে। কিন্তু ওই নম্বরে বহুবার চেষ্টা করেও কল যায় না, ব্যস্ত দেখায়।
উপজেলার ৮৫নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কার্তিক মাতা জানান, তার মোবাইল ফোনে নগদ অ্যাকাউন্ট করা থাকলেও মেসেজে পিন নম্বর আসেনি। পিন নম্বর পুনরায় (রিসেট) দিতে গেলে ভুল দেখিয়ে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে বলে। কিন্তু কাস্টমার কেয়ারের নম্বরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায় না। একই অভিযোগ করেন দক্ষিণ জয়পুরগ্রামের অভিভাবক মিন্টু সিকদার।
নাজিরপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি, ৭০নং চররঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, ভোগান্তির শিকার অনেক অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে ভিড় করছেন। অনেক সময় অভিভাবকের সঙ্গে শিক্ষকদের সাথে বাক-বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। এতে বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক অভিভাবক পোস্ট অফিস ও নগদ এজেন্টের কাছে গিয়ে পুনরায় পিন নম্বর (রিসেট) তৈরি করতে পারছেন না।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল বাশার বলেন, ‘অভিভাবকদের টাকা পেতে কোন সমস্যা হলে প্রধান শিক্ষকরা আমাকে অবহিত করবে এবং নগদ অ্যাকাউন্ট জটিলতা নগদের এজেন্ট যারা রয়েছে তারা সমাধান করবে।’
নগদ-এর পিরোজপুর জেলার পিআরও প্রদীপ কুমার দে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘গত করোনাকালীন সময় অভিভাবকরা তাদের ব্যবহৃত নগদ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করে আর লেনদেন না করায় নগদ কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বরটি রিজেক্ট করে দিয়েছে। বর্তমানে এজেন্টের মাধ্যমে সঠিক এনআইডি কার্ড আমরা পেলে অ্যাকাউন্টটি চালু করে দেই।