৩৮৬ রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার উদাহরণ নেই বিশ্বকাপে। তবু আশা ছাড়েনি টাইগাররা। প্রথম ৩০ ওভারে দলের স্কোর ১৮০ থেকে ২০০ পর্যন্ত টেনে নিতে পারলে পরের ২০ ওভারে আরো ১৮০ থেকে ২০০ রান করা যাবে—এমন আশায় বুক বেঁধেছিল বাংলাদেশ। তবে স্বপ্নটা অধরাই থেকে গেল। ২০১৯ বিশ্বকাপে এসে ইংল্যান্ডকে আর হারানো গেল না। কার্ডিফে আরেকটি মিরাকল ঘটাতে পারলো না বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাকিব বললেন, এই মিরাকলের আশাই করেছিলেন তারা, ‘আমাদের টার্গেট ছিল ২৫-৩০ ওভার পরে আমরা কোন অবস্থাতে আছি সেটা থেকে যেন আমরা প্ল্যান করতে পারি। ৩০ ওভারে যদি ১৮০ থেকে ২০০ কাছাকাছি থাকি তাহলে বাকি ২০ ওভারে আমাদেরকে হয়তো ১৮০ বা ২০০ চেজ করতে হবে। যেটা অনেক সময় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে করা সম্ভব। আমরা প্রচুর টি-টোয়েন্টি খেলেছি। তাই এই বিশ্বাসটা এখন সবাই করে; যদি উইকেট হাতে থাকে। ২ উইকেট যাওয়ার পর আমার আর মুশি ভাইয়ের পার্টনারশিপ হচ্ছিল ভালো। এরপর সাথে সাথে দুইটা উইকেট পড়ে যাওয়ার পরে আমরা অনেক পেছনে চলে গেছি। প্রথম দিকে মনে হচ্ছিল যে আমরা কাজটা পারব না। কিন্তু ৩০ ওভারের সময় মনে হলো যে আমরা হয়তো কাছাকাছি যেতে পারব। ইংল্যান্ডের স্কোর ৩৩০ থেকে ৩৪০ এর মধ্যে হলে আমরা আরেকটু স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করতাম। ৩০ ওভারের সময় বোর্ডে আমাদের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৮০। ওই অবস্থা থেকে উইকেট হাতে থাকলে ৩২০ বা ৩৩০ রান চেজ করার কথা ভাবা যায়। ৩৮০ রানটা আমাদের অনুকূলে ছিল না।’
পরাজয়ের চুলচেরা কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বাংলাদেশের অনেক ঘাটতি খুঁজে পেয়েছেন সাকিব। হতাশা প্রকাশ করেছেন দলের বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে। কার্ডিফের মাঠের আকার আয়তন নিয়েও আপত্তি রয়েছে তার। সাকিব বলেন, ‘ফিল্ডিং নিয়ে আমরা একটু কনসার্ন। বিশেষভাবে এরকম কন্ডিশনে যা আমাদের অনুকূলে না। ফিল্ডিং নিয়ে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আর তাছাড়া আমাদের ফিল্ডাররা তো ওদের মত এত অ্যাথলেট না।’
ম্যাচের ফলাফলের জন্য সাকিব অবশ্য ইংল্যান্ডকেও পাওনা কৃতিত্বটা দিলেন, ‘অবশ্য ইংল্যান্ড দারুণ খেলেছে। তাদের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে ব্যাট করেছে সেটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তাদের ওপেনাররা যেভাবে শুরু করেছে আর বাটলার যেভাবে শেষ করেছে সেটা ছিল চমত্কার। এটাই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ম্যাচে টিমের প্ল্যানতো থাকেই। কিন্তু জস বাটলারের মতো যখন কেউ ব্যাটিং করে তখন প্ল্যানগুলো কঠিন হয়ে যায়। এবিসিডি কোনো প্ল্যানই তখন আর কাজ করতে চায় না।’
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার। ওই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ কি পারবে কামব্যাক করতে। এ সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে যেতে হলে আমাদেরকে ৫ থেকে ৬টা ম্যাচ জিততে হবে। প্রতিটা দলই এখানে শক্তিশালী। সবাই সবার সেরাটা দিতে চেষ্টা করবে। শ্রীলঙ্কারও অনেক ম্যাচ উইনার আছে। ভালো খেলোয়াড় আছে। অবশ্যই তাদের সাথে আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। যেহেতু শ্রীলঙ্কার সাথে গত কিছু ম্যাচ জিতেছি তাই আত্মবিশ্বাসটা থাকবে। তবে এগুলো আসলে খুব বেশি ফ্যাক্টর না বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে। ওই দিনের খেলাটাই আসলে সব থেকে বেশি জরুরি হবে।’