স্পোর্টস রিপোর্টার
সাউদাম্পটনে ২০ মিনিটেরও বেশি সংবাদ সম্মেলন করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ ওটিস গিবসন। আজ তাদের খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এই ম্যাচ হারার কোনো সুযোগ নেই দক্ষিণ আফ্রিকার। এমন একটা ম্যাচের আগে খেলা নিয়ে খুব একটা কথা হলো না। গিবসনকে কথা বলতে হলো এবি ডি ভিলিয়ার্সের ফেরার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটা নিয়ে। সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ বললেন, তারা এই ডি ভিলিয়ার্সের অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান। তবে এটা তিনি পরিষ্কার করে বললেন, ফেরার মতো সময়ে ফিরতে চাইলে ডি ভিলিয়ার্স অবশ্যই বিশ্বকাপে থাকতেন।
ডি ভিলিয়ার্স চাইলেও কেন তিনি বিশ্বকাপ দলে নেই, এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এই ক্যারিবীয় কোচ বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আমাদের মধ্যে অনেকেই এই বিশ্বকাপ দলে এবিকে তার চেয়ে বেশি করে চেয়েছিল। সে যদি সত্যিই (সময় মতো) চাইতো, তাহলে আজ সে এখানে থাকত।’
দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলন জুড়ে ডি ভিলিয়ার্স নিয়ে প্রশ্ন হয়েছে। শান্তভাবে এই ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন গিবসন। একবার শুধু জিজ্ঞেস করেছেন, ‘আমরা কি শুধু এই বিষয় নিয়েই কথা বলব? নাকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের জন্যও কিছু প্রস্তুতি নেব?’
মজা করে এই কথা বললেও গিবসন কখনোই ধৈর্যহারা হননি। বর্ননা করেছেন, কিভাবে দল ঘোষণার দিন সকালেই তার সাথে সাবেক কিংবদন্তী ডি ভিলিয়ার্সের সাথে কথা হয়েছিল। গিবসন বলেছেন, আগে ডি ভিলিয়ার্স অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসির সাথে কথা বলেছিলেন এই বিষয়ে, ‘সে আগে ফাফের সাথে কথা বলেছিল। ওরা একসাথে আইপিএল না কি যেন একটা টুর্নামেন্ট খেলছিল। এরপর ফাফ আমাকে ফোন করে জানিয়েছিল কী ঘটছে। এর খানিক পর, দল ঘোষণার দিন সকালেই সে (ডি ভিলিয়ার্স) আমাকে ফোন করে। আমার একেবারে নিখুঁতভাবে মনে নেই, সে কী শব্দ বলেছিল। তবে সে জানতে চেয়েছিল যে, তার আর ফিরে আসার কোনো সুযোগ আছে কি না।’
এই প্রশ্নের জবাবে গিবসন সরাসরি ডি ভিলিয়ার্সকে জানিয়ে দেন যে, এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে তাকে নির্বাচক কমিটির সাথেই কথা বলতে হবে। তবে এটাও উল্লেখ করে দেন যে, ডি ভিলিয়ার্স অনেক দেরি করে ফেলেছেন, ‘তুমি অনেক দেরি করে ফেলেছ। আমি একেবারে এই কথাটাই বলেছিলাম যে, অনেক দেরি হয়ে গেছে।’
গত বছর মে মাসের দিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ডি ভিলিয়ার্স। এরপর থেকে কয়েক মাস ধরে তাকে অন্তত বিশ্বকাপটা খেলার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকান বোর্ড, প্রধান নির্বাচক, কোচ, অধিনায়ক বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তাতে কোনো কাজ হয়নি। সেই দিকে ইঙ্গিত করে গিবসন বলেছেন, ‘সে অবসর নেওয়ার পর থেকে অনেক কিছু ঘটেছে। আমরা নিরুপায় হয়ে সামনে এগিয়েছি। এরপর ডি ভিলিয়ার্সকে সরাসরি বলা হয়েছে, তাকে বিশ্বকাপ খেলতে গেলে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলতে হবে। কিন্তু সেটা সে করেনি।’ গিবসন বলেছেন, এরপরও তিনি হাল ছাড়েননি। গত ডিসেম্বরে তিনি ডি ভিলিয়ার্সের সাথে দেখাও করেছিলেন। তখনো ডি ভিলিয়ার্স বলেছেন, তিনি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সুখে আছেন।