লাওস ম্যাচে স্ট্রাইকারদের উপর ভরসা

লাওসের বিপক্ষে বাংলাদেশ ১-০ গোলে জিতলেও সেই জয় কঠিন ছিল। লাওস গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা। তার ভালো খেলার চেয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে লাওস সুযোগ তৈরি করে ঘরে ঢুকে গিয়েছিল। যেকোনো মুহূর্তে গোল হতে পারত। বেঁচে যাওয়ার মানে এই নয় যে, ১১ জুন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠে ফিরতি ম্যাচটা নিরাপদ থাকবে। কোচ জেমি ডে খুব সাবধান। গোলপোস্টের নিচে এবং ডিফেন্স লাইনটা আরো মজবুত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। গত দুইদিন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জেমি ডে তার কোচিং স্টাফদের নিয়ে গভীর মনযোগে কাজ করেছেন। হাতে আজ একদিন সময় রয়েছে, আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ-লাওস ম্যাচ। এই সময়টা দলটাকে যতটা সম্ভব ঘষেমেজে তৈরি করার চেষ্টা করছেন কোচ।  

বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডের দুর্ভাবনার জায়গা আরো আছে। লাওসে স্ট্রাইকার মতিন মিয়া, জীবন, সবুজ খেলেছে। কিন্তু তারা গোলের দেখা পাননি। গোলের দায়িত্ব যাদের উপর ছিল তারা গোল করতে পারেনি। ঢাকার মাঠে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে মতিন মিয়া কিংবা জীবনদের গোল আশার আলো জ্বালিয়ে ছিল। গোল পাচ্ছিলেন বলে আলোচনায়ও ছিলেন আবাহনীর জীবন কিংবা বসুন্ধরার মতিন মিয়া। থাইল্যান্ডে ১০ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প চলাকালীন সেখানকার ক্লাব ফুটবল দলের বিপক্ষে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ একটি ড্র হলেও অন্যটিতে জয় আছে। সবুজ দুই গোল করেছিলেন এক ম্যাচে। আশার আলো জাগানো সেই সবুজও কিছু করতে পারেননি। জীবন এবং মতিন মিয়ারা যখন গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না তখন বদলি খেলতে নামা সুবজ মাঠে নেমেছিলেন। তিনিও কিছু করতে পারেননি। তরুণ মিডফিল্ডার রবিউল হাসান বদলি খেলতে নেমে সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছেন গোল করে। তার গোলের উপর ভর করে লাওসকে হারানো বাংলাদেশের ফুটবল নতুন স্বপ্ন দেখছে।

প্রশ্ন উঠছে গোল করতে না পারলে ম্যাচ জেতাবে কে? মুখ খুললেন জীবন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠে অনুশীলনে নামার আগে বলছিলেন, ‘আমার আত্মবিশ্বাস আছে গোল পাবো। লাওসের ম্যাচে আমি চেষ্টা করেছিলাম। অবশ্যই গোল পেলে ভালো লাগতো। সেভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। রবিউল গোল করছে আমরা খুশি। এখন নিজেদের মাঠে গোল করার চেষ্টা থাকবে।’

লাওসের বিপক্ষে ম্যাচে স্ট্রাইকারদের উপর চাপ বাড়ছে। লিগ গোল পাচ্ছেন কিন্তু জাতীয় দলে গিয়ে সেটা হচ্ছে না। লিগে ১০ গোল পাওয়া জীবন বলেন, ‘লিগে গোল পাচ্ছি। ধারাবাহিতকভাবে গোল করেছি। কিন্তু জাতীয় দলে না পাওয়াটা একটু অস্বস্তি লাগছে। বাড়তি চাপ তো অবশ্যই। আমার আত্মবিশ্বাস আছে আমি এই খেলায় গোল পাবো।’ দলের ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপুও সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা স্ট্রাইকারদের উপর ভরসা রাখতে চান।

এশিয়ান র্যাংকিংয়ে যারা নিচের সারির দল এমন ১২টি দেশ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ এশিয়ান কাপ ফুটবলের প্রথম রাউন্ডের বাছাইয়ে লড়াই করছে। এখান থেকে ৬টি দল দ্বিতীয় রাউন্ডের বাছাইয়ে উঠবে। যেখানে অপেক্ষায় আছে ৩৪টি ফুটবল দেশ। ৪০ দেশ ৮ গ্রুপে খেলবে। সেই চল্লিশে উঠতে পারলে চার দেশের বিপক্ষে আট ম্যাচ খেলতে পারবে বাংলাদেশ।