চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। জাহাজও ভিড়েছে আগের বছরের চেয়ে বেশি। জানা যায়, সদ্য শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। একইসময়ে কার্গো (খোলা পণ্য) হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া বন্দরে জাহাজ ভিড়েছে আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। 

চট্টগ্রাম বন্দরে সপ্তাহজুড়ে দিনরাত কাজ হওয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সুফল হিসেবে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে বলে বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিগত ১ বছরে কোভিড এবং ইউক্রেন যুদ্ধ থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সপ্তাহের সাতদিন দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন যে কারণে বন্দর কখনো বন্ধ থাকেনি। কোভিডের কারণে ইউরোপের অনেক বন্দর কাজ করেনি। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেই ইতালি, স্লোভেনিয়া, রটারডেম ও লিভারপুল বন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। এসব কারণেই প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত

বন্দর সূত্র জানায়, ২০২১-২২ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩৫৮টি যা আগের বছরে ছিল ৩০ লক্ষ ৯৭ হাজার ২৩৬টি। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় গত বছর ১ লাখ ৫৮ হাজার ১২২টি কন্টেইনার বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০২১-২২ সালে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১১ কোটি ৮১ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন যা আগের বছরে ছিল ১১ কোটি ৩৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৭৩টি। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় গত বছর ৪৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৭ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং বেশি হয়েছে। 

২০২০-২১ সালে ৪ হাজার ৬২টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়লেও গত বছর অর্থাৎ ২০২১-২২ সালে ভিড়েছে ৪ হাজার ২৩১টি। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে গত বছর ১৬৯টি জাহাজ বেশি ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। 

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এম শাহজাহান বলেন, পতুর্গাল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বন্দরের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি পাইপলাইনে রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি তাদের সহযোগিতার হাত আরেকটু প্রসারিত করতেন তাহলে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হবে এবং দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে বলে, এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।