রবিউল হাসান রবিন, কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই কাউখালীসহ উপকূলীয় খাল-বিল-নালায় পানির প্রবাহ বেড়েছে। সেই সঙ্গে নানা প্রজাতির দেশি জাতের ছোট মাছ ও পোনার বিচরণ বাড়ছে। চিংড়ি ও দেশি মিঠা পানির ছোট মাছ ও পোনা ধরার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশের তৈরি বিশেষ ফাঁদ। মাছ ধরার এ ফাঁদের পরিচিতি ‘চাঁই’ নামে।
গ্রীষ্মের শুরু থেকে গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল ও নদী-নালায় চাঁই দিয়ে মাছ ধরার ধুম পড়ে যায়। যা চলতে থাকে ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত। কাউখালীসহ উপকূলের অন্যান্য উপজেলার হাটবাজারগুলোতে মাছ ধরার এই উপকরণটির বাজারজাত ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
কাউখালীতে সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার দুই দিন বসছে চাঁইয়ের বড় হাট।
জানা গেছে, কাউখালীর সন্ধ্যা নদী-তীরবর্তী দক্ষিণ বাজার হচ্ছে এ অঞ্চলের চাঁইয়ের সবচেয়ে বড় মোকাম। এখান থেকে পাইকারি দরে চাঁই কিনে নিয়ে ব্যবসায়ীরা উপকূলের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করেন।
নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী গ্রামের চাঁই ব্যবসায়ী সুলতান হোসেন জানান, নাজিরপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে গড়ে উঠেছে চাঁই তৈরির শিল্প। এছাড়া খুলনা বাগেরহাট, রাজাপুর, হুলারহাট এলাকায়ও বাণিজ্যিকভাবে চাঁই তৈরি হয়ে থাকে। এসব চাঁই কাউখালীর বড় মোকামে সরবরাহ হয়ে উপকূলের হাটবাজারে বাজারজাত হয়। আকারভেদে ৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় একেকটি চাঁই।
বিক্রেতা মোরসালিন বলেন, প্রতিহাটে তিনি ৮০ থেকে ৯০টি চাঁই বিক্রি করে থাকেন। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রি অনেক বেশি। তার মতো আরো ১০-১৫ জন বিক্রেতা রয়েছেন এ হাটে।