ছাত্রের হাতে শিক্ষক হত্যাও দেখতে হলো!

কিশোরের সঙ্গে অপরাধের সংযুক্তি থাকলে শাস্তির বিধানও থাকা উচিত। শ্রেণিকক্ষে অথবা বাইরে শিক্ষার্থীকে শাসনের ভাষা এখন কী? শিশুদের আঘাত না-করার যে বিষয়গুলো আমরা বারবারই বিবেচনা করে আসছি তার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কতটুকু কার্যকর থাকছে বা না-আঘাত করেও কাউন্সিলিং করেও কি শিশুদের বা কিশোদের কান পর্যন্ত আমরা ঢোকাতে পারছি কি না তা সত্যিই বড় সন্দেহের জায়গা তৈরি করে ফেলছে! 

শিক্ষক হত্যা কখনোই সাধারণ ঘটনা হতে পারে না। আপনি এর তীব্র নিন্দা জানাবেন, শাস্তি চাইবেন অথবা ঘৃণা করবেন—কোনোটাই সত্যিকারের মানবিক চিন্তা বিকাশের সঠিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারবে না। শিক্ষককে আঘাত করে মেরে ফেলার মতো জঘন্য কাজটি করতে যে কিশোর কিছুই মনে করেনি তার দুঃসাহস নিশ্চয়ই একদিনে এ পর্যন্ত আসেনি। প্রথমে মিথ্যা, তারপর মিথ্যাকে সত্য বানাতে অভিভাবকদের সহায়তা, তারপর অপরাধী হয়ে উঠতে নিজেকে প্রস্ত্তত করা, পারিবারিক শাসন না-থাকা, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অমান্য করাসহ সব খারাপ কাজ করার পর সে আজ খুনি। তার মানে নিশ্চয়ই ছেলেটি একেবারেই শাসন পায়নি কোথাও থেকে। কিশোররা অপরাধী হয়ে উঠছে বলে বলে আমরা মুখে মুখে ফেনা তুলে ফেলি। অথচ এই অপরাধের সাজা? 

কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রেখে তাকে দেখভাল, দূরত্বে রেখে মানুষ বানানোর ক্লান্িতহীন প্রত্যাশা! কিশোর অপরাধ বন্ধে দ্রুত চিন্তা করতে হবে। স্কুল চলাকালীন কাউন্সিলিং বাড়াতে হবে। অনিয়মিত স্কুলে যারা আসে তারা যার সন্তানই হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া জরুরি। স্কুলের ছাত্ররা বাইরে কোনো ধরনের দলীয় অথবা নিজেদের মধ্যে দল করে তা খারাপ কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে বলে মনে করলে তা বন্ধ করতে বাধ্য করতে হবে। স্কুলে বাইক নিয়ে আসা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা উচিত। রাত আটটার পর অভিভাবক বিহীন কিশোরদের বাইরে বের হওয়ার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। প্রতিটি স্কুলে কাউন্সিলর নিয়োগ দিতে হবে এবং শৃঙ্খলা টিম তৈরি করে বখে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। 

শিক্ষা বলতে আমরা যা শিখছি তা যে সঠিক হচ্ছে না তার প্রমাণ শিক্ষককে হত্যা, শিক্ষককে অপমান-অপদস্হ করা, বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলটাইমে বাইরে গিয়ে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে যাওয়া। প্রায়ই এমন খবরগুলো আসছে। একটা সময় বিচার করেও আর কাজ হবে না। কিশোর অপরাধ-এর সঙ্গে সাজা যোগ করে শাসনের আওতায় আনার জন্য কার্যকর কী ব্যবস্হা নেওয়া যায় সে বিষয়ে রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে। আমরা কোমলমতি শিক্ষার্থী বলতে যাদেরকে বুঝি তারা কী করে বড় হয়ে যাচ্ছে অথবা আসলেই তারা অপরাধী হয়ে ওঠার পেছনে কী কী ব্যত্যয় থেকে যাচ্ছে তা খুব করে ভেবে দেখা দরকার। নইলে কলঙ্কের এই দায়গুলো আমাদের কখনোই শুদ্ধ সমাজব্যবস্হা পেতে দেবে না ।