মুশফিকের জায়গা পূরণের মিশন 

বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে মিডল অর্ডারের বড় নির্ভরতা মুশফিকুর রহিম। ক্রিকেটের খুদে সংস্করণে অবশ্য বড্ড বিবর্ণ তার ব্যাট। ১০০ ম্যাচ খেলেছেন, ৬টি হাফ সেঞ্চুরিতে ১ হাজার ৪৯৫ রান করেছেন, ব্যাটিং গড় ১৯.৯৩।

পরিসংখ্যান যাই হোক, এটুকু নিশ্চিত যে মুশফিকের টি-২০ ক্যারিয়ার আতশী কাঁচের নিচেই পড়ে আছে। গত বছর মরুর বুকে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেও সমালোচনার তোপে পড়েছিলেন তিনি। কারণ কয়েকটি ম্যাচেই উইকেটে গিয়ে অপ্রথাগত শটস খেলে উইকেট বিলিয়েছেন, দলকে বিপদে ফেলেছেন। রিভার্স সুইপ, স্কুপ খেলে সম্ভাবনাময় ইনিংসের অপমৃত্যু ঘটিয়েছেন তিনি। যা তার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের কাছে কাম্য ছিল না। অবশ্য বিশ্বকাপের পরই টি-২০ দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। চলতি বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে আবারও দলে ফেরেন মুশফিক। সিরিজে একটি ম্যাচই খেলেছেন, ক্যারিয়ারের শততম টি-২০ ম্যাচে ২৫ বলে ৩০ রান করেছেন। তার ব্যাট এই ফরম্যাটে আর মিডল অর্ডারের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে মুশফিকের ক্যারিয়ার আলোচনার উত্তুঙ্গে উঠেছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে। কোচদের সঙ্গে সিরিজ পূর্ব মিটিং শেষে সিনিয়রদের প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সিনিয়ররা যত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেবে, ততই ভালো। তারা সিদ্ধান্ত না নিলে, বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে।

কথাটা মুশফিককে উল্লেখ করে ছিল না, যদিও সামগ্রিক আবহে তার দিকেই আঙুল তুলেছিল সবাই। বিশাল চাপ নিয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরির পর মুশফিক বলেছেন, টি-২০ কে বিদায় বলবেন না। এমনকি তার স্ত্রীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে খেদোক্তি প্রকাশ করেছেন।

তবে দল সূত্রের খবর, হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, টিম ম্যানেজমেন্ট এ ফরম্যাটে মুশফিকের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নয়। তাই বিশ্বকাপকে চিন্তা করে বিকল্প ভাবা হচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে সেই ভাবনা বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে। কারণ হজব্রত পালনের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকেই ছুটি নিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তার জায়গায় বিকল্প ধরা হয়েছিল ইয়াসির আলি রাব্বিকে। ইনজুরিতে তিনিও ছিটকে গেছেন এই সিরিজ থেকে।

তারপরও মুশফিকের জায়গা পূরণের চেষ্টা ক্যারিবিয়ানে অব্যাহত থাকবে। মিডল অর্ডারে তরুণদের জন্য বড় সুযোগ তার অনুপস্হিতি। এ প্রসঙ্গে টি-২০ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, ‘মুশফিক আমাদের অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়। তবে একই সময়ে এটা নতুনদের জন্য একটা ভালো সুযোগ, ওর জায়গা পূরণ করার। তার জায়গায় যে-ই খেলুক না কেন, আমার মনে হয় এটা তার জন্য একটা দারুণ একটা সুযোগ হবে। আসলে দল হিসেবে সবার জন্যই সুযোগ আছে সিরিজটা জেতার।’ মুশফিক না থাকলেও এই সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিট নিয়ে চিন্তিত নন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘সাকিব, লিটন আছে, আমি আছি। আফিফ, সোহান, মোসাদ্দেক আছে। শেখ মেহেদী আছে। আমি মনে করি ব্যাটিংয়ের গভীরতা ভালো। আমাদের বোলিং আক্রমণও খুব ভালো, বৈচিত্র্য আছে| আশা করি, অনেক চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে।’