যুগোপযোগী নানা পদক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরই মধ্যে বেশকিছু নতুন লাইন, ইঞ্জিন ও কোচ যুক্ত হয়েছে রেল বহরে। গত এক যুগে ৪৩টি জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। নির্মাণাধীন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন চালু হচ্ছে আগামী বছর। এ লাইনটি ভবিষ্যতে যুক্ত হবে মিয়ানমার, ভারত, নেপাল, ভুটানসহ ২৭টি দেশের সঙ্গে। এছাড়া বিগত ১০ বছর পর আবার নতুন করে চালু হচ্ছে সিরাজগঞ্জ রেললাইন প্রকল্প।
এদিকে মানিকগঞ্জবাসীর গণআন্দোলন ও দাবির মুখে অবশেষে মানিকগঞ্জকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গী থেকে মানিকগঞ্জ হয়ে পাটুরিয়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের বাকি জেলাগুলোও রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। জেলাগুলো হলো রংপুর, ঝালকাঠি, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, পটুয়াখালী, বরগুনা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বান্দরবান, নড়াইল, পিরোজপুর ও বাগেরহাট।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, যাচাই শেষে টঙ্গী-মানিকগঞ্জ-পাটুরিয়া প্রকল্পটি কার্যকর ও উপযোগী বলে মনে করা হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তহবিল প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে এটি নির্মাণের জন্য অন্য একটি প্রকল্প নেবে। টঙ্গী থেকে কেন ট্র্যাকটি নির্মাণ করা হবে, জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর মধ্য দিয়ে সরাসরি লাইন দেওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। তাই টঙ্গী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, পরামর্শক সব কার্যকর বিকল্পগুলো পরীক্ষা করবেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঢাকা-মানিকগঞ্জ রেলপথ তৈরির বিষয়টি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে আছে। পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন পেলেই কাজের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, রেলকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সারা দেশকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ লাইন চালু হলে পর্যটকদের আগমন সহজ হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটক অধিক হারে কক্সবাজার আসা-যাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। যা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে। তিনি আরো বলেন, ঢাকা থেকে সরাসরি টুরিস্ট ট্রেন চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে।
রেল সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের যানজট নিরসনে চীন থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০ সেট (তিন ইউনিটে একসেট) ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডিইএমইউ) সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত ডিইএমইউ দ্বারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে ১৬ জোড়া কমিউটার ট্রেন এবং জয়দেবপুর-ঢাকা সেকশনে চার জোড়া কমিউটার ট্রেন চালু করা হয়েছে।