ডে কেয়ারে আনন্দে শিশুরা, মায়েরা নিশ্চিন্তে অফিসে

দেওয়াল জুড়ে চিত্রাঙ্কন করা। সেখানে ঠাঁই পেয়েছে নানা আকৃতির গাছপালা, পশু ও পাখি। আছে কক্ষ জুড়ে নানা ধরনের খেলনা। আছে রাইড ও টেলিভিশন। টিভিতে চলছে কাটু‌র্ন। ডে কেয়ার সেন্টারে থাকা শিশুদের কেউ খেলাধুলা করছেন। আবার কেউ খাবার খাচ্ছেন। আবার কেউ মনের আনন্দে ছোটাছুটি করছেন। এভাবেই কেটে যাচ্ছে তাদের সময়। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ডে কেয়ার সেন্টার ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়ল।

সুপ্রিম কোর্টের জন্য নির্মিত করা হয়েছে ১২তলা ভবন ‘বিজয় ৭১’। ১৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনে রয়েছে ৩২টি এজলাস তথা বিচার কক্ষ। বিচারপতিদের জন্য রয়েছে ৫৬টি চেম্বার। বেঞ্চ অফিসার, সহকারী বেঞ্চ অফিসার ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে ৫৬টি অফিস। এছাড়া এই ভবনের দ্বিতীয় তলায় করা হয়েছে ডে কেয়ার  সেন্টার। গত ২৯ জুন এই সেন্টারের উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এই ডে কেয়ার সেন্টারে সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শিশু সন্তানরা সপ্তাহের পাঁচ দিন অবস্হান করছেন। এদের মধ্যে কন্যা শিশুদের পাশাপাশি রয়েছে ছেলে শিশুরাও। তারা একে অপরের সঙ্গে খুনশুটি করে পার করছে দিন। আবার কেউ রাউডে, আবার কেউ বল নিয়ে ছোটাছুটি করছেন। আবার কেউ সিসিমপুরের হালুম ও টুকটুকিকে নিয়ে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ অন্যের হাত থেকে সেগুলো কেড়ে নিতে সচেষ্ট। পিতা-মাতার অনুপস্হিতির অভাব যেন তারা ভুলেই গেছেন। সকলেই সময় পার করছেন আনন্দে ও হাসিখুশিতে। আবার কোন কোন শিশু ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাদের জন্য রাখা আরামদায়ক বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে একে অপরারের সঙ্গে মেতে রয়েছেন গল্পে। এভাবেই ডে কেয়ারের থেকে সময় পার করছেন প্রায় অর্ধশত শিশু।

গত মার্চ মাসে উদ্বোধন করা হয় ‘বিজয় ৭১’ ভবন। এরপরই প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই ডে কেয়ার সেন্টার স্হাপনের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা মোতাবেক আরলি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্টদের পরামর্শ নিয়ে ঐ ভবনের দ্বিতীয় তলায় চালু করা হয় এই সেন্টার। এই সেন্টারের প্রতিটি দেওয়ালে বড় করে অঙ্কন করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তুর ও গাছপালার ছবি। আছে ইংরেজি বর্ণমালাও। শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশের লক্ষ্যেই কক্ষের দেওয়াল জুড়ে এই চিত্রাঙ্কন করা হয়েছে।

গতানুগতিক ডে কেয়ার সেন্টারের বাইরে গিয়ে শিশুদের কীভাবে নানা বিষয়ে শিক্ষাদান করানো যায় সেই চিন্তাও রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঝে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ৫০ জন শিশু এই ডে কেয়ার সেন্টারে থাকতে পারবে। বর্তমানে ৩০ জন শিশু এই ডে কেয়ারে থাকছেন। তাদের কীভাবে পাঠদান করানো যায় সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।

বর্তমানে শিশুদের দেখভালের জন্য চার জন নারী কর্মী সেখানে কাজ করছেন। তারা সার্বক্ষণিক যত্ন নিচ্ছেন শিশুদের। প্রধান বিচারপতির এমন পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা বলছেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টে চাকরি করি। বাসায় সন্তান কার কাছে রেখে আসব সেই চিন্তায় দিন পার করতে হচ্ছিল। কিন্তু এখানে ডে কেয়ার সেন্টার থাকায় শিশুদের সেখানে রেখে এসে নিশ্চিন্েত অফিস করতে পারছি।

গত ২৯ জুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথসহ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্হিত ছিলেন। উদ্বোধনের পরই প্রধান বিচারপতি শিশুদের মাঝে চকলেট ও খাবার বিতরণ করেন।