সুনামগঞ্জের ছাতকে ভয়াবহ বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে অনেক ঘর-বাড়ি। ভেসে গেছে ঘর-বাড়িসহ গোলা ভরা ধান, ঘরের জিনিসপত্র। বন্যায় এ অঞ্চলের অনেক মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। ঘর-বাড়ি হারিয়ে শত শত মানুষের ঠিকানা এখন খোলা আকাশের নিচে। কেউ-কেউ স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তা অথবা ব্রিজের ওপর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পাশে পলিথিন- ত্রিপল দিয়ে ঘর নির্মাণ করে অনেক পরিবার গবাদি পশুসহ কিছু দিন বসবাস করে এখন তারা ভিটা-বাড়ি মেরামত কাজে ব্যস্ত। এই চিত্র উপজেলার সব এলাকায়। এদিকে, সরকারিভাবে বসতঘর হারা মানুষের ঘর নির্মাণের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বন্যায় ঘর হারিয়েছেন এমন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সোমবার (৫ জুলাই) থেকে এ সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
জানা গেছে, ছাতক পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ২ হাজারেরও অধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ঘর। উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকার ঘর-বাড়ির আঙ্গিনায় এখনো বন্যার পানি। বন্যায় ঘর হারা মানুষ বর্তমানে আশ্রয়হীন ও চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন। খাবার পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার সব এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
ভয়াবহ বন্যায় বসতঘর হারিয়ে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের গদারমহল গ্রামের বাসিন্দা আজাদ মিয়া জানান, হাটু পরিমাণ বন্যার পানি ঘরে, কিছু মালপত্র গুছিয়ে গরু-বাছুর ও স্ত্রী-ছেলেদের নিয়ে গ্রামের আরেক বাড়িতে রাতে আশ্রয় নিয়েছেন। ইতোমধ্যেই ওই বাড়ির বসতঘরেও পানি প্রবেশ করে। স্রোত বেড়ে যায়, ভয়ে নিজ বাড়িতে আর যাওয়া হয়নি। সকালে ওই বাড়ি থেকে গ্রামের আরেক বাড়ির ছাদে গরু-বাছুর নিয়ে চলে যান। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে মালামালসহ নিজের বসত ঘরের একটি টিনের বেড়া ভেসে যায়। ছেলেদের বইপত্রও ভেসে গেছে।
পৌরসভার ভাসখালা গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ঘর বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে। তিনি এখন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার সর্বস্ব হারিয়ে গেছে। ঘরের কোনো চিহ্নই নেই।’
ইউপি চেয়ারম্যান এড. সুফি আলম সুহেলের দাবি, বসতঘর হারিয়ে বেশি নিঃস্ব হয়েছেন উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মানুষ।
সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক জানিয়েছেন, প্লাবনে গোটা উপজেলায় ঘর-বাড়ি, রেলপথ, রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। অনেক রাস্তা-ঘাটের অস্তিত্বও নেই। ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। তারা এখন অন্যের বাড়ি বা রাস্তায় আশ্রয় নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, ‘প্রথম ধাপে ৫৭৫ পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ৫ হাজার আংশিক বিধ্বস্ত হওয়া ঘর-বাড়ি মেরামতের জন্য সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’