ক্ষতিকর নাইট্রোজেন গ্যাস নির্গমনকারী পশু খামারগুলো বন্ধে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন নেদারল্যান্ডসের কৃষকরা। দাবি না মানলে ‘গোটা দেশ অচল' করে দেবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন তারা।
পরিবেশ নিয়ে সরকারের এক পরিকল্পনায়ে ক্ষুব্ধ নেদারল্যান্ডসের কৃষক ও খামারিরা। সোমবার (৪ জুলাই) ট্রাক্টর ও ট্রাক নিয়ে দেশটির সুপারমার্কেটের খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্র অবরোধ করেন তারা। কৃষকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কয়েকটি বন্দর অবরোধ করেছেন জেলেরাও।
নেদারল্যান্ডসের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নাইট্রোজেন ও অ্যামোনিয়া গ্যাস নিঃসরণ ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার এক প্রস্তাব তৈরি করেছে সম্প্রতি। এই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় প্রাদেশিক সরকারগুলোকে তার উপায় বের করতে এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এর ফলে বড় আকারের অ্যামোনিয়া নিঃসরণকারী পশু খামারগুলো সরকার কিনে নিতে পারে।
সংকট কতটা গভীর
বিশ্বে বায়ু দূষণের ক্ষেত্রে নাইট্রোজেন অক্সাইডের গুরুতর ভূমিকা আছে। বলা হয় গ্রিন হাউস গ্যাসের জন্য কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়েও বেশি দায়ী নাইট্রাস অক্সাইড। তবে ডাচ কৃষকরা বলছেন তারা অন্যায় আচরণের শিকার। সরকার মোটেও তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে না।
পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণসহ অন্যান্য খাতগুলোকেও বিধিনিষেধের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে অ্যামোনিয়া গ্যাস নিঃসরণকারী পশু খামারগুলোই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নেদারল্যান্ডসের সরকার।
প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকাগুলোর কাছে নাইট্রোজেন নির্গমন ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনতে চায় সরকার। এর ফলে দেশটির ৩০ শতাংশ পশু খামার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আন্দোলন অব্যাহত থাকবে
কৃষকেরা তাদের দাবি না মানলে ‘গোটা দেশ অচল করে দেয়ার' হুমকি দিয়েছেন। তাদের এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন।
এমন অবস্থায় পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দফতর এবং কৃষকদের সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
যদিও প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে এই বিষয়ে কড়া অবস্থানই নিয়ে রেখেছেন। কট্টর বিক্ষোভের জন্য দায়ী কৃষকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।