আট বছর পরেই বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে সরাসরি ৬০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। সেই সঙ্গে বাড়বে রপ্তানিও। ২০৩০ সালে গার্মেন্টস রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার বা সাড়ে ৯ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে বিজিএমইএর নতুন রূপকল্প ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজিএমইএর সহসভাপতি মিরান আলী। সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। মিরান আলী বলেন, ‘এ বছরে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি আয় হয়েছে ৫২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক খাতের রপ্তানি আয় হবে ১০০ বিলিয়ন ডলার।’
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় অর্জন করতে পারাটা অনেক বড় অর্জন। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। আর ডেনিমে আমরা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে সব দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম অবস্থানে আছি।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০ সালে বিশ্ববাজারে আমাদের পোশাকের শেয়ার ছিল ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, অর্থাৎ আমাদের সামনে সুযোগ অপরিসীম। যদিও ২০২১ সালের পরিসংখ্যানটি এখনো প্রকাশ হয়নি। আশা করছি, ২০২১ সালে আমাদের বৈশ্বিক শেয়ার ৭ শতাংশ অতিক্রম করবে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে আমরা আমাদের শেয়ার ১০ শতাংশে নিয়ে যেতে পারব। তবে সবকিছু নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।’
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের সঙ্গে সঙ্গে বাজার বহুমুখীকরণেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অ্যাপারেল ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে আমরা নতুন-নতুন বাজার তৈরি ও আমাদের মূল বাজারগুলোতে কীভাবে রপ্তানি আরো বাড়াতে পারি, সে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’