সাগরে মাছ ধরা বন্ধের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করল ৩৮ জেলে পরিবার

সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের প্রতিবাদে ও সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল রবিবার সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে জেলেরা। গতকাল সকাল ১০টার দিকে কয়েকশ জেলে সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রামের ৩৮টি জেলে পল্লির নারী, পুরুষ ও শিশুরা অবরোধে অংশ নেয়। এতে ব্যস্ততম মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সমস্যায় পড়ে যায় যাত্রীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক থেকে সরে যায় অবরোধকারীরা।

গত ২০ মে থেকে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এতে বিপাকে পড়ে যায় মাছ আহরণের উপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলো। জেলেদের বক্তব্য- তাদের আয়ের অন্য কোনো উত্স নেই। তাই মাছ ধরা বন্ধে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে তারা। গত ১ জুন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সাতদিনের আল্টিমেটাম দেয় জেলেদের সংগঠন উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মত্স্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশন। অন্যথায় ৯ জুন মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল সকাল ১০টা থেকে শত শত জেলে পরিবার সীতাকুণ্ডের বাংলাবাজার বাইপাস সড়কে জড়ো হতে থাকে। পরে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে।

জেলেদের অভিযোগ, তারা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বোট ও জাল মেরামত করে সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে। সামনে ইলিশের ভরা মৌসুম। মাছ ধরা বন্ধ করে দেওয়ায় জেলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছে। সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক সুমন বণিক ইত্তেফাককে জানান, জেলেরা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে জেলেদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর সড়ক থেকে সরে যায় তারা।