বিএম কনটেইনার ডিপোর বিস্ফোরণে মালিক কর্তৃপক্ষ দায়ী

চট্টগ্রামে বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের জন্য ডিপো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হয়েছে। একই সঙ্গে এর তদারকির দায়িত্বে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে দায়ী করা হয়েছে। 

ডিপোসমূহের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নীতিমালা, ২০১৬ কোনো আইন ও বিধিমালার অধীনে করা হয়নি বলে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মাসে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো নীতিমালা শুল্ক আইন ও বিধিমালার অধীনে করা হলেও তারা এ নিয়ে এ পর্যন্ত কোনো বৈঠক করেনি। ডিপোগুলো কার কাছে দায়বদ্ধ, তারও স্পষ্ট উল্লেখ নেই।

গত ৪ জুন রাতে জেলার সীতাকুণ্ড থানাধীন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুরে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরদিন (৫ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানর রহমানকে প্রধান করে সব সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও গতকাল বুধবার বিকেলে বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মিলনায়তনে কমিটির সদস্যরাসহ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মো. মিজানুর রহমান প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, এতে ১৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন এবং এর সঙ্গে ২৫৯ পৃষ্ঠার বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংযুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড। ফাইল ছবি

তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান অনুষ্ঠানে তদন্ত কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের কিছু বিষয়ের ব্যাপারে আলোকপাত করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের অনেক বিষয়ে পরোক্ষভাবে জবাব দেন কিংবা এড়িয়ে যান। তিনি মূলত অগ্নিকাণ্ডের জন্য ডিপোতে কনটেইনারে ভর্তি থাকা রাসায়নিক পদার্থ হাইড্রোজেন পার অক্সাইডকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন রসায়নবিদ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দাহ্য নয় বললেও তা বাস্তবিক ঠিক নয়।

তিনি বলেন, ইউটিউবের মাধ্যমে দেখা যায়, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড সানলাইটে রাখলে আগুন ধরে যায়। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি লজিক্যাল সিকোয়েন্সের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছে, কনটেইনার ভর্তি হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের জন্য বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেনজারাস গুডস (আইএমডিজি)-এর ৯টি ক্লাসের ৫(১), ৫(২) ও ৫(৮) অনুযায়ী হাইড্রোজেন পার অক্সাইড হ্যাজার্ডাজ পদার্থ। তিনি বলেন, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের তালিকায় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দাহ্য পদার্থ হিসেবে উল্লেখ না থাকলেও কিছু যায় আসে না। কারণ এটি আইএমডিজি নীতিমালার আলোকে দেখতে হবে।

চট্টগ্রামে বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ । ফাইল ছবি

তিনি জানান, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড যেসব প্লাস্টিকের নীল জেরিক্যানে ছিল, সেগুলোতে ইউএন (ইউনাইটেড নেশনস) সনদ ছিল না। জেরিক্যানগুলো হাইড্রোজেন পার অক্সাইড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আল রাজি কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডে উৎপাদন করা হয়। জেরিক্যানের প্রতিটি ৩০ লিটার করে এবং ৬০ শতাংশ মাত্রার হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ছিল। প্রতিটি ২০ ফুট কনটেইনারে ৬৮০টি হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের জেরিক্যান ছিল। ডিপোতে ৩৭টি কনটেইনার ছিল। এর মধ্যে ১২টি কনটেইনার অবিস্ফোরিত ছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০টি কনটেইনার ৪০ দিন পর্যন্ত ডিপোতে ছিল। এগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে তিন বার সংশ্লিষ্ট শিপিং লাইনস সময়ক্ষেপণ করে এবং এক বার রপ্তানিকারক সময়ক্ষেপণ করে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী উক্ত ১০টি কনটেইনারের মধ্যে পাঁচটি কনটেইনারে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে।