দিনাজপুরে আমের বাজারে ক্রেতা কম, বিপাকে আম চাষিরা

অতিবর্ষণ, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা এবং আসন্ন কোরবানি ঈদের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পাইকারদের সংখ্যা কম থাকায় আম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনাজপুরের বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা। 

দিনাজপুর সদর উপজেলার গাবুড়া এলাকার আমের বাগানমালিক একরামুল হক জানান, আগাম কেনা ও নিজের বাগানসহ সব মিলিয়ে ৩ হাজার আমের গাছ রয়েছে তার। কিন্তু গত কয়েক দিনে আমের চাহিদা কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রবিবার বাজারে প্রতি মণ রূপালী আম বিক্রি করেছেন ৮০০ টাকা দরে। কিন্তু বাজার ভালো থাকলে এই আম কমপক্ষে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। দাম এমন থাকলে লোকসান গুনতে হবে তাকে। 

দিনাজপুরের অন্যান্য বাগানমালিক ও আগাম বাগান কিনে নেওয়া ব্যবসায়ীরাও জানান, অন্যান্য বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ব্যবসায়ীরা এসব আম তাদের বাগান থেকেই কিনে নেয়। কিন্তু দিনাজপুরে এবার বাইরের ব্যবসায়ী তেমন না আসায় বাধ্য হয়েই দিনাজপুরের বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের আমের বাগানমালিক রেজাউল ইসলাম জানান, চাহিদা কম থাকায় বাগানের আম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। দিনাজপুর ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজিউল ইসলাম বিপ্লব জানান, দিনাজপুরে সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ হয়েছে। যার কারণে পচে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই বেশি বেশি করে আম পাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা আর কোরবানি ঘনিয়ে আসায় এবার দিনাজপুরে বাইরের ব্যবসায়ীরা কম আসছে। আর বাইরের ব্যবসায়ীরা তেমন না আসায় কমেছে আমের চাহিদা। 

তিনি বলেন, অন্যান্য বছর দিনাজপুর শহরের আমের বাজার থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ ট্রাক এবং জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে শতাধিক ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু এবার তার চিত্র উলটো। বাইরের ব্যবসায়ীরা তেমন না আসায় বর্তমানে প্রতিদিন আমের বাজার থেকে আট-১০টি ট্রাক এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী রাজিউল ইসলাম বিপ্লব জানান, শনিবার দিনাজপুরের বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) আম্রপালি প্রকারভেদে ৮০০-১ হাজার ৫০০ টাকা, হাঁড়িভাঙ্গা ১ হাজার ৫০০-২ হাজার ১০০, মিশরি ভোগ ১ হাজার ৮০০-২ হাজার ২০০, মল্লিকা ৭০০-১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক দিনের বাজারের তুলনায় প্রতি মণ আম ২০০-৩০০ টাকা কম দরে বিক্রি হচ্ছে। 

আরেক আম ব্যবসায়ী নাসিম আলী জানান, পাইকারি বাজারে দাম কম থাকায় খুচরা বাজারে আমের দাম কমেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আম্রপালি প্রকারভেদে ৪০-৪৫ টাকা ও হাঁড়িভাঙ্গা ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মঞ্জুরুল হক জানান, দিনাজপুর জেলায় এবার ৫ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৬৩ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন আম।