মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ খ ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, পূর্ণ নাগরিকত্ব না পাওয়া পর্যন্ত জোর করে কোনো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে শেখ হাসিনা সরকার। তবে রোহিঙ্গারা যেন আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না ওঠে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে বলে মন্ত্রী নির্দেশনা দেন।
রবিবার কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী কুতুপালং ক্যাম্প-২ এর সিআইসি কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে আধঘন্টাব্যাপী মতবিনিময় করেন। এসময় মন্ত্রী রোহিঙ্গা নেতাদের কাছে জানতে চান, ক্যাম্পে কোনো সমস্যা আছে কিনা ?
জবাবে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, চিকিত্সা, শিক্ষা ও জীবনধারণের ব্যবস্থা প্রতুল হলেও রাত্রিকালীন নিরাপত্তা নিয়ে একটু শঙ্কায় থাকে অনেকে। ক্যাম্পে কাজ করা এনজিওগুলো সমন্বয় না করে দায়সারাভাবে কাজ করায় নানা সমস্যায় পড়তে হয়। আরকান সোসাইটি ফর ইফস হিউম্যান রাইটসের সভাপতি মাস্টার মহিবুল্লাহ মন্ত্রীকে বলেন, মিয়ানমার সরকার তাদেরকে রোহিঙ্গা বলে না। আশিয়ান ২ বছরে ৫ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার যে কথা বলছেন তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা না দিলে এবং জমিজমা, শিক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা না করলে কখনো রোহিঙ্গারা ফেরত যাবে না।
অভিযোগগুলো মন্ত্রী গভীর মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা পূর্ণ নাগরিকত্ব না পাওয়া পর্যন্ত তাদের জোর করে মিয়ানমার পাঠানো হবে না। রোহিঙ্গাদের অভিযোগ ও দুর্ভোগের কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।