জয়পুরহাটে  ঈদুল আযহা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে  

মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উদযাপনের জন্য জেলায় স্বাস্থ্যবিধি পালনসহ কয়েক দফা নির্দেশনা পালনের নিমিত্তে প্রস্তুতির কাজ চলছে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদগাহে ঈদগাহে রবিবার (১০ জুলাই) ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করা হবে।     

করোনা প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ধর্মমন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জয়পুরহাটে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে। এখানে দুটি জামাত সকাল ৭টায় প্রথম ও ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জেলার বিশিষ্ট জনেরা এখানে নামাজ আদায় করবেন। জয়পুরহাট চিনিকল জামে মসজিদে সকাল ৭টা ও ৮টায় দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও কালেক্টরেট ঈদগাহে, কাশিয়াবাড়ী ঈদগাহে, তালীমূল ইসলাম একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে, পুলিশ লাইনস মাঠে, খনজনপুর খানকা শরীফ মসজিদ মাঠে, রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আহলে হাদিস মসজিদ মাঠে, তেঁতুলতলী, হাতিল বুলুপাড়া ও করিমনগর লালবাজার ঈদগাহসহ জেলার পাঁচ উপজেলাতে মোট ২শ ৪৩ টি মসজিদ ও ঈদগাহে এবার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।  

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ঈদ উৎসব উদযাপনের জন্য ১৭ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানান, পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ভবনে সঠিক মাফ ও নিয়মে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদ জামাত আয়োজন, পটকা ও আতশবাজি বন্ধ, নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করা, সরকারি শিশু পরিবার, জেলখানা ও হাসপাতালে উন্নত খাবার পরিবেশন, ঈদের দিন ও পরবর্তী এক সপ্তাহে তরুণদের বেপরোয়াভাবে মোটর সাইকেল চলাচল রোধ করা,  জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিং করাসহ পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, রোগাক্রান্ত পশু ক্রয় বিক্রয় রোধ, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি সহ জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা। প্রতিটি ঈদগাহে পর্যাপ্ত হ্যান্ডওয়াস ও সাবানের ব্যবস্থা রাখারও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।     

পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা জানান,  জেলায় সুষ্ঠুভাবে ঈদুল আযহা উৎযাপনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসাবে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হবে। এছাড়াও র‌্যাব সদস্যরা সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা তদারকি করবেন। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করবেন। নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করা ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় বিষয়ে পৌরসভার সহযোগিতা নিতে বলা হয়েছে।