প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছে মানুষ। ঘরমুখী মানুষের পদচারণায় মুখরিত বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন, লঞ্চঘাট ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। কিন্তু রাজধানী থেকে বের হতেই তাদেরকে পড়তে হচ্ছে তীব্র যানজটে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন ঘণ্টা যানজটে বসে থাকছে তারা। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে। গতকাল রাজধানী থেকে বের হবার পথগুলো ছিল তীব্র যানজট। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী ও সায়দাবাদে যানজট ছিল অসহনীয়। মহাখালী এবং গাবতলিতে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় থাকলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে যে আজ শুক্রবার ছুটির দিনে তা বাড়বে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মনিবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেছেন, ঢাকা ছাড়ার পথগুলো আমরা তাত্ক্ষণিকভাবে সহজ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু রাজধানীর বাইরের যানজট নিরসনের দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের। তিনি জানান, প্রতিবছর ঈদযাত্রার আগে পরিবহনের চাপ বাড়ে। এতে যানজটও হতে পারে।
এদিকে, সারা দেশে সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার সড়ক ভাঙাচোরার কারণে সড়ক পথে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি বন্যায় সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় দেশে নতুন করে ৪৫৭ কিলোমিটার সড়ক চলাচল অযোগ্য হয়ে গেছে। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে সড়ক পথে ধীর গতিতে চলতে হচ্ছে যানবাহনকে। এ কারণেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পদ্মা সেতু চালুর পর এবার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হচ্ছে। লঞ্চে চাপ নেই যাত্রীদের, এখনো মিলছে টিকিট।
যানজটের কারণে সময় মতো কোনো গাড়ি কাউন্টারে পৌঁছাতে পারছে না। এদিকে গুলিস্তান থেকে সায়দাবাদ, সায়দাবাদ থেকে চিটাগাং রোড, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বের হতে তীব্র যানজট লক্ষ্য করা গেছে। সময় মতো কাউন্টারে গাড়ি না আসতে পারার কারণে ঘরমুখী মানুষের ভিড় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হচ্ছে। এদিকে শত শত গাড়ি আটকে থাকার কারণে চালক ও যাত্রীদের প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ইমাদ এন্টারপ্রাইজে কাউন্টার মাস্টার মো. আরমান মিয়া জানান, রাস্তায় যানজট এতটাই তীব্র যে গুলিস্তান থেকে সায়েদাবাদ আমাদের গাড়ি আসতে সময় লাগছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। সায়েদাবাদ থেকে একটি গাড়ি ছাড়লে যাত্রাবাড়ী পার হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। সায়েদাবাদ থেকে চিটাগাং রোড ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বের হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে।
এছাড়া ঘরমুখী মানুষের পদচারণায় মুখরিত পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাট। তবে ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া ঘাটে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না এবার। ফেরিতে যাত্রীবাহী যানবাহনের পাশাপাশি প্রচুর মোটরসাইকেল পার হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে নারী ও শিশুসহ মালামাল বহন করছেন চালকরা। এ ছাড়া সময় যত বাড়ছে ততই ঘরমুখী মানুষ ও যানবাহনের চাপ বাড়ছে দৌলতদিয়া ঘাটে। ঘাটে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক তেমন আটকে নেই। ভোগান্তি ছাড়াই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ব্যবহার করে চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। তবে গতকাল পদ্মা-যমুনা নদীতে স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে অসুবিধা হচ্ছিল। বর্তমানে এই রুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে।
গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সরেজমিনে দেখা যায়, কেবিনের আগাম টিকিট পেতে কোনো দৌড়ঝাঁপ নেই, কারো কাছে তদবির করতে হচ্ছে না। কাউন্টারে এসে টিকিট পাচ্ছেন যাত্রীরা। ঈদ উপলক্ষে এবার টিকিটের দামও বাড়েনি। বরং কেবিন ও ডেকের টিকিটের ভাড়া আগের তুলনায় কম। ভোলার যাত্রী কিরণ শর্মা বলেন, যাত্রী ধরে রাখতে কেবিন, ডেকের ভাড়া কমিয়ে দিয়েছেন লঞ্চমালিকরা। তাদের কাছে যাত্রীদের কদরও বেড়েছে। বরিশালের যাত্রী মো. পলাশ মিয়া বলেন, লঞ্চের কাউন্টারে কোনো ভিড় নেই। টিকিট পেতে কোনো ঝামেলা হয়নি।