বাড়ি বাড়ি ঘুরে পশু কিনছেন অনেক ক্রেতা  

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এবার কোরবানির বাজারে বাণিজ্যিক খামারের চেয়ে প্রান্তিক খামার ও গৃহপালিত গরু-ছাগলের চাহিদা বেশি। হাটে না গিয়ে বাড়ি থেকেই পশু কিনছেন অনেক ক্রেতা।

শুক্রবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায় এমন চিত্র। 

আলাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের মহিদুল ইসলাম জানান, তার খালাতো ভাই আব্দুল খালেক তিনটি গরু ও দুটি খাসি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই অনুযায়ী সকালে শ্রীরামপুর গ্রাম থেকে তিনজনের জন্য তিনটি গরু এবং একটি ছাগল কেনা হয়েছে। 

আব্দুল খালেক বলেন, বাড়ি থেকে গরু কিনলে পশুর হাটের দালাল (মধ্যস্বত্বভোগী) এবং অতিরিক্ত হাসিলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

কলেজশিক্ষক কামরুজ্জামান মাসুদ বলেন, আমার বাড়িতে রাখার জায়গা নেই। আমিও নিজ গ্রামের বাড়ি থেকেই গরু কিনেছি। প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো পশু নিরাপদে কেনা যায়। তাই গ্রামেই আমার আগ্রহ বেশি।

রাঙামাটি আদিবাসী পাড়ার হোপনা সরেন বলেন, কোরবানি উপলক্ষে এক-দুটি খাসি আর গরু পোষা হয়। মাঠ থেকে ঘাস কেটে খাওয়ানো হয়। এখন বাড়ি থেকেই একটি গরু ৪৫ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে গেছেন একজন স্কুলশিক্ষক আর খাসিটি কিনেছেন আলাদিপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ১৮ হাজার টাকায়। গরু ও ছাগল বিক্রি করে চাহিদা মতোই দাম পাওয়া গেছে। 

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলায় দুই হাজার ৩২৫টি গরুর খামার রয়েছে। এরমধ্যে ২৩টি খামার প্রাণিসম্পদ বিভাগের অধীন নিবন্ধিত। এসব খামারে ১৯ হাজার ৮২৩টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। একইসঙ্গে কোরবানির জন্য ৮ হাজার ৪১৯টি ছাগল-ভেড়াসহ অন্যান্য উপযুক্ত প্রাণী রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে পোষা পশুর পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে বাড়িতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পোষা গরু ও ছাগলসহ অন্যান্য পশু রয়েছে। উপজেলার চাহিদা পূরণ করে এখন সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্নস্থানে। এরই মধ্যে ৭০ শতাংশ কোরবানির পশু কেনাবেচা হয়ে গেছে।