ঢাকার রাস্তা ফাঁকা, তবু ভোগান্তি

রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ততম জায়গার মধ্যে ফার্মগেট অন্যতম। তবে সেখানে তেমন গণপরিবহন নেই। দূর-দুরান্তের যাত্রীরা গণপরিবহণের জন্য দীর্ঘসময় ধরে অপেক্ষা করছে। শুক্রবার (৮ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

ভুক্তভোগীরা বলছেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বাড়ি ছুটছেন রাজধানীর বেশির ভাগ মানুষ। এজন্য শহরের ভেতরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর কয়েকটি পয়েন্টে অনেক যানজট রয়েছে। গাবতলী, মহাখালী, সায়দাবাদ, উত্তরা এসব জায়গায় ঘরমুখো যাত্রী ও দূরপাল্লার গাড়ির চাপ রয়েছে। 

সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের গাড়িগুলো রাজধানীতে ঢুকতেও পারছে না, আবার বের হতে পারছে না। এজন্য রাজধানীর ভেতরে গণপরিবহন সংকট বলে জানিয়েছেন যাত্রী ও বাসচালকরা।

কাওরানবাজার মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন পলাশ মিয়া। তিনি যাবেন উত্তরা। কিন্তু আধাঘণ্টা ধরে তিনি কোনো গাড়ি পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় তেমন গাড়ি নেই, এজন্য যেতে পারছি না। অনেকক্ষণ পর পর গাড়ি আসলেও ভরা থাকে। থামায় না। আবার হেল্পাররা উত্তরার ভাড়া বেশি চাচ্ছেন। তাদের দাবিমতো ভাড়া না দিলে গাড়ি থামাচ্ছেন না।’

ফার্মগেট মোড়ে জসিম ব্যাপারি তার পরিবারের তিন সদস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি যাবেন মানিকগঞ্জ। ঢাকায় এসেছিলেন আত্মীয়র বাসায়। তিনি বলেন, ‘৪০ মিনিট যাবত এখানে দাঁড়ানো। বাস পাই না। দু’একটা আসলেও যাত্রীদের চাপে উঠতে পারি না। দাঁড়ানোর জায়গাও নাই।’

ফার্মগেট। ছবি: ইত্তেফাক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কলেজগেট মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন আয়শা আক্তার। তিনি যাবেন মালিবাগ, রাজারবাগে। অনেকক্ষণ যাবত অপেক্ষা করছেন। তিনি কলেজগেটে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন যানজটের কারণে যেতে পারি না, আর আজ গাড়ির সংকটে যেতে পারছি না। সকালে এক গাড়িতে এসেছি, ঈদ উপলক্ষে ভাড়া ১০ টাকা বেশি নিয়েছে।’

মানিকগঞ্জগামী একটি গণপরিবহনের ড্রাইভার সোহেল মিয়া বলেন, ‘ভোরে মোহাম্মদপুর কলেজগেট এসে যানজটে পড়ি। গাবতলী যেতে দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। প্রতিদিন অন্তত তিনবার ট্রিপ দিতে পারি। আজ দু’বারও হলো না। গাবতলীতে মারাত্মক যানজট।’

উত্তরাগামী বাসের কনট্রাক্টর রিপন বলেন, ‘এই লাইনে আজ বাস কম। ঢাকার বাইরে বেশির ভাগ বাস ভাড়া গেছে। এজন্য ভেতরে বাস নাই। আর থাকলেও যাত্রীর তুলনায় বাস কম। ঈদ আসলেই আমারা ৫-১০ টাকা ভাড়া বেশি চাই। কেউ না দিলে কিছু বলি না।’