পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর যেভাবে বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চগুলোতে যাত্রী কমেছিল, তাতে এবারের কোরবানির ঈদেও শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে ঈদের দুদিন আগে স্পেশাল সার্ভিস দিতে শুরু করেছে লঞ্চগুলো। এ সার্ভিসের প্রথমদিনে ঢাকা থেকে বরিশাল নদী বন্দরে এসে পৌঁছায় লঞ্চগুলো।
শুক্রবার ভোর থেকে বরিশাল নদীবন্দরে একের পর এক লঞ্চ ভিড়তে থাকে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সরাসরি রুটের ১০টিসহ ভায়া রুটের চারটি ও একটি সরকারি জাহাজ নদীবন্দরে এসে পৌছায়। প্রতিটি লঞ্চের কেবিন, ছোফা, ছাদে, কেবিনের করিডোর, বেলকোনি, প্রথম ও দ্বিতীয় তলার ডেকসহ সব স্থানে যাত্রী ছিল।
যাত্রীরা জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর যাত্রী না পেয়ে সরকার নির্ধারিত বা আগের ভাড়ার থেকে অনেক কম ভাড়া আদায় করতো লঞ্চগুলো। কিন্তু কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তারা আগের ভাড়া রাখতে শুরু করেছে। যেমন ডেকের ভাড়া ৩৫০ টাকা করে আদায় করেছে। আবার সোফায় ৭০০ টাকা, ডাবল কেবিনে ২ হাজার ৫০০ টাকা ও সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার ৪০০ টাকা করে ভাড়া নিয়েছে।
লঞ্চ মালিক ও ম্যানেজাররা জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর যেভাবে যাত্রী কমে গিয়েছিল, তাতে ঈদে যাত্রী নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী লঞ্চে এসেছে।
নিজাম শিপিংয়ের ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সদ্য পদ্মা সেতু চালুর পর লঞ্চে এতো পরিমাণ যাত্রী হবে তা কারো ধারণা ছিল না। মনে হচ্ছে নৌ-পথের যাত্রাকেই নিরাপদ মনে করেছে ঘরমুখো মানুষ।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক মো. কবির হোসেন জানান, স্পেশাল সার্ভিসের লঞ্চে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে বরিশাল নদীবন্দরে। বেসরকারি কোম্পানির লঞ্চগুলো যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ভোরেই ঢাকায় ফিরে গেছে।
এদিকে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় নৌবন্দর এলাকাসহ গোটা বরিশালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম।