ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহে থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। তবে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই এমন বলা যাচ্ছে না। অনলাইনে জঙ্গিদের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।
ঈদের নামাজ নিয়ে রাজধানীবাসীর উদ্দেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, যে যেখানে খুশি নামাজ পড়তে যান, আপনাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব মহানগর পুলিশের। তবে বৃষ্টির দিন যেহেতু, তাই ঈদগাহে আমরা ছাতা ছাড়া অন্যকিছু অনুমোদন করব না। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে নিরাপত্তা ব্যবস্হা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের জামাতে কেউ যেন মোবাইল ডিভাইস সঙ্গে না আনেন, আনলেও যেন হাতে রাখেন। অনেকেই নামাজ শেষে তার মোবাইল খুঁজে পান না। ঈদ জামাতে মুসল্লিদের মধ্যে অনেকেই অসৎ উদ্দেশে আসেন, যাদের আলাদা করা কঠিন। এছাড়া সঙ্গে অন্য কোনো ব্যাগ বহন করা যাবে না। তিনি বলেন, তিন দিন আগেও দেশে কোভিডে এক দিনে ১২ জন মারা গেছেন। তাই কোভিড আক্রান্তের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার অবস্থায় নেই। যারা ঈদগাহে আসবেন ন্যূনতম যেন মাস্ক পরা থাকে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ রাজধানীর ঈদ জামাতগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্হা বলবৎ থাকবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ঈদুল আজহায় গরুর হাট ব্যবস্থাপনা আর মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা বড় দুটি কাজ। হাটের অবস্থা এখন পর্যন্ত ভালো। ছিনতাই-মলম বা অজ্ঞানপার্টির কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে মূলত ঢাকার বাসিন্দাদের কোরবানির পশু কেনা শুরু হবে। এবার অনলাইনে প্রচুর পশু বেচাকেনা হচ্ছে, তাই হাটে ভিড় কম। যারা হাটে যাবেন আপনাদের নিরাপত্তায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য কাজ করছেন। অতিরিক্ত হাসিল যেন আদায় করা না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, পশুর হাটে জাল টাকা ঠেকাতে আমাদের বিভিন্ন ইউনিট অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের জাল টাকা শনাক্তের মেশিন দিয়েছে। হাটে যে কোনো মানুষকে সন্দেহ হলে আপনারা আমাদের কাছ থেকে যাচাই করে নেবেন।
ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, ঈদে অনেকে বাসাবাড়ি ফাঁকা রেখে গ্রামে চলে যান। তাই যাওয়ার সময় নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা করে যাবেন। মূল্যবান সম্পদ নিরাপদ হেফাজতে রেখে যাবেন। নিজ থেকে নিরাপত্তা বিধান করে রাখাই উত্তম। সারা পৃথিবীতে মূল্যবান সম্পদ যেমন স্বর্ণ, টাকা ব্যাংকে রাখা হয়। তাই এসব মূল্যবান সম্পদ থাকলে নিরাপদ স্থানে রেখে যাবেন।