শুক্রবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে টানা যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ঈদে ঘরমুখী মানুষ। মহাসড়কের মাঝে একই জায়গাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। একমুখী গাড়ির চাপে পুরো রাস্তাই বন্ধ হয়ে আছে। মাঝে-মধ্যে ধীর গতিতে কয়েক হাত আগানোর পর আবারও থেমে যাচ্ছে যানবাহন। কোন কোন জায়গায় ৫-৬ ঘণ্টা ধরে স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে এসব যানবাহন। এককথায় সমস্ত মহাসড়কই যেন বিভিন্ন ধরণের যানবাহনের দখলে।
সরেজমিনে দেখা গেছে- বড় গাড়ি ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল এমনকি গাড়ির ছাদেও মানুষের উপচে পড়া ভীর রয়েছে। যে যেভাবে পারছেন ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরছেন তারা। এর ফলে নানা ভোগান্তিরও শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার থেকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গাড়ির টিকেট কাটতে হয়েছে তাদের। তারপর আবার এক গাড়ির কথা বলে অন্য গাড়িতে তোলা হয়েছে।
এদিকে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। সংকট রয়েছে পানীয়-জলসহ বিভিন্ন ধরণের খাবারেরও। রাস্তার দু’পাশে হকার থাকলেও অনেকগুণ বেশি দামে খাবার বিক্রি করতে দেখা গেছে তাদের।
কথা হলো নওগাঁর যাত্রী মো. সোলাইমান মিয়ার সঙ্গে। তিনি গতরাত ১২টার সময় বাইপাল থেকে গাড়িতে উঠেছেন। সাড়ে ১০ ঘণ্টায় এসেছেন এলেঙ্গা পর্যন্ত। সব যাত্রীদেরই প্রায় একই অবস্থা। কখন বাড়িতে ফিরবেন তারা এই অনিশ্চয়তার ছাপ তাদের সবার চোখে মুখে।
এদিকে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় সমাজসেবক মো. আব্দুল মান্নান জানালেন, তারা ভোররাত থেকে রাস্তার পাশে অবস্থিত সব মসজিদ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেট যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়াও রাস্তার দু’পাশের বাসা বাড়িতে যাত্রীরা পানি খাওয়াসহ প্রাকৃতিক কাজ সারছেন। স্থানীয় কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে এবং গৃহবধূকে দেখা গেলো বিনামূল্যে পানি খাওয়াতে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘ভয়াবহ যানজটের কারণে হাইওয়ে পুলিশ ঠিকমত কাজ করতে পারছে না। কিছু কিছু চালক আইন না মেনে গাড়ি চালানোর কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’