আবে, গাদ্দাফি, ভুট্টোসহ ২১ শতকে যেসব নেতা হত্যার শিকার 

গতকাল শুক্রবার (৮ জুলাই) জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে নারা শহরের নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। এসময় এক বন্দুকধারী তার ওপর গুলি চালায়। ৬৭ বছর বয়সী শিনজো বন্দুক হামলার গুরুতর আহত হন এবং হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মারা যান। 

জাপানের গণমাধ্যম এনএইচকে জানায়, ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে পেছন থেকে গুলি করা হয়। তখন তিনি বক্তৃতার মাঝখানেই লুটিয়ে পড়েন। এরপর তার রক্তক্ষরণ হয়। জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী এই প্রধানমন্ত্রীকে এমনভাবে হত্যায় শুধু জাপানিজদের শোকাহত করেনি, সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। 

তবে রাজনৈতিক নেতাদের খুনের ঘটনা এটাই প্রথম না। ২১ শতকে বিশ্ব উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছে। 

মার্কিন প্রেণেতা ডেভিড অ্যামেসকে হত্যা

ডেভিড অ্যামেস

২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর  ব্রিটিশ পার্লামেন্টর সদস্য ডেভিড অ্যামেস যখন ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন তখন ইসলামিক স্টেটের এক অনুসারী ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করে। আলি হারবি আলি নামে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ডেভিড অ্যামেসকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

চাদের প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস ডেবিকে হত্যা 

চাদের প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস ডেবি

২০২১ সালের ২০ এপ্রিল মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস ডেবি  (৬৮)  সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন। তিনি দেশটিতে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় ছিলেন। ষষ্ঠ বারের জন্য দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার একদিন পরই তিনি হত্যার শিকার হন। 

হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইসি 

হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইসি

৭ জুলাই, ২০২১ সালে হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইসি নিজ বাড়িতে খুন হন। বন্দুকধারীরা বাসভবনে প্রবেশ করে মোইসিকে হত্যা করে। এসময় তার স্ত্রীও আহত হন। এই ঘটনায় উচ্চ-পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেশ কয়েকজন সাবেক কলম্বিয়ান সেনাসহ ৪০ জনের বেশি জনকে আটক করা হয়। 

তুরস্কে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কার্লভ 

তুরস্কে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কার্লভ

২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর তুরস্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কার্লভকে গুলিবিদ্ধ হয়ে হত্যার শিকার হন। জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি তুরস্কের একজন পুলিশ কর্মকর্তা।  আঙ্কারায় একটি আর্ট গ্যালারির প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় আন্দ্রেই কার্লভকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি। তবে পুলিশের সঙ্গে পাল্টা গুলিতে বন্দুকধারীও নিহত হন। 

ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা জো কক্স নিহত 

ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা জো কক্স নিহত

২০১৬ সালের ১৬ জুন ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা জো কক্সকে গুলি করে এবং ছুরি মেরে হত্যা করা হয়। হামলাকারী 'ব্রিটেন ফার্স্ট' বলে চিৎকার করে জো কক্সকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে। হামলাকারী যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। 

তিউনিসিয়ার চকরি বেলাইদ 

তিউনিসিয়ার চকরি বেলাইদ

চরকি বেলাইদ নামে তিউনিসিয়ার বামপন্থী বিরোধী দলের বিশিষ্ট সদস্য ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন। এই নেতাকে হত্যার ছয় মাস পরে আরেক বামপন্থী নেতা মোহাম্মদ ব্রাহ্মীর মৃত্যু হয়। 

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভেনস 

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভেনস 

২০১২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জঙ্গিরা লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন কূটনৈতিক কেন্দ্রে হামলা চালায়। এতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভেনসকে নিহত হন। এছাড়া হামলায় আরও তিনজন আমেরিকান নিহত হয়েছেন। 

লিবিয়ার স্বৈরশাসক মোয়াম্মার গাদ্দাফি 

লিবিয়ার স্বৈরশাসক মোয়াম্মার গাদ্দাফি 

এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বরে লিবিয়ার ক্ষমতা দখল করেছিলেন ক্যাপ্টেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি। পরবর্তী ৪২ বছরে এই গাদ্দাফিই কঠোর হাতে তার বিরোধীদের দমন করে হয়ে উঠেছিলেন লিবিয়ার একচ্ছত্র স্বৈরশাসক। গাদ্দাফির পতন হয় ২০১১ সালে। ন্যাটো-সমর্থিত বিপ্লবীদের হাতে ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর নির্মমভাবের হত্যার শিকার হন। 

প্রেসিডেন্ট জোয়াও বার্নার্ডো ভিয়েরা 

প্রেসিডেন্ট জোয়াও বার্নার্ডো ভিয়েরা

২০০৯ সালের ২ মার্চ পশ্চিম আফ্রিকান রাষ্ট্র গিনি বিসাওতে দেশটির রাষ্ট্রপতি জোওয়াও বার্নার্ডো ভিয়েরা সৈনিকদের হাতে নিহত হন। 

বেনজির ভুট্টো 

বেনজির ভুট্টো

২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ১৫ বছর বয়সী এক আত্নঘাতী বোমারুর হামলায় নিহত হন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। যে কিশোর সে আত্নঘাতী হামলা চালিয়েছিল তার নাম বিলাল।

রাওয়ালপিন্ডিতে এক নির্বাচনী জনসভা শেষ করে বেনজির ভুট্টো যখন তার গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সে সময় বিলাল তাকে গুলি করে এবং পরে আত্নঘাতী হামলা চালায়।