টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যার পানি ও তীব্র গরমে ঘরে ঘরে সর্দি, জ্বর ও ডায়রিয়া ছড়িয়ে পরেছে। শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবক। গত ১৫-২০ দিন দিন ধরে চলছে এই অবস্থা। শিশুদের পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১১ জুলাই) হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভিড়। রোগীদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
মির্জাপুর উপজেলায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে বন্যার পানি বেড়েছে। এছাড়া গত ২০-২৫ দিন ধরে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে শিশুদের পাশাপাশি বাড়ির অভিভাবকদের মধ্যেও সর্দি, জ্বর, মাথা ব্যথা, বমিসহ ডায়রিয়া জনিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারী হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। গরমের কারণে শিশুদের জ্বর, শ্বাস তন্ত্র, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং বয়স্ক নারী পুরুষদের মধ্যে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার মির্জাপুর উপজেলা সদরের কুমুদিনী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। বহিঃ বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে শতাধিক অভিভাবক সর্দি, জ্বর, বমিসহ ডায়রিয়া জনিত রোগে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছেন।
ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে এক অভিভাবক বলেন, তার শিশু সন্তানের বেশ কিছু দিন ধরে ডায়রিয়া, বমি ও সঙ্গে জ্বর ছিল। এখানে চিকিৎসার জন্য এসেছেন।
কুমুদিনী হাসাপালের চাইল্ড রিচার্স ফাউন্ডেশনের বহির্বিভাগের চিকিৎসক বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২০০-২৫০ জন শিশু চিকিৎসা নিতে আসছেন। গত দুই দিন ঈদের জন্য ছুটি থাকার কারণে একটু কম রোগী আসছেন।
কুমুদিনী হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক বলেন, বর্তমান সময়ে আবহাওয়া পরিবর্তন এবং গরমের কারণে শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ বেশি দেখা দিয়েছে। এখানকার চিকিৎসক ও নার্সরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিতে। শিশুদের অভিভাবকদের রোগ প্রতিরোধের জন্য ভাল পোশাক, তরল খাবার ও পুষ্টি জনিত খাবারসহ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। একই অবস্থা দেখা গেছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (পেডিয়াটিকস) এমপিএইচ (নিপসম) ডা. এ বি এম আলী হাসান বলেন, বন্যার পানি ও গত বেশ কিছু দিন ধরে তীব্র গরমের কারণে শিশুসহ বয়স্কদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, বমি ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জ্বর, শ্বাস তন্ত্র, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া। এতে ভয়ের কোন কারণ নেই। আবহাওয়া পরিবর্তন এবং গরমের কারণে এ রোগ হচ্ছে।
মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলা সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের, বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে এবং মা শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারীরা ডায়রিয়া প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা মূলক পরামর্শ ও কাজ করে যাচ্ছেন।