গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর হাটবাজার বসায় যানজট ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এতে একদিকে নোংরা হচ্ছে পরিবেশ এবং অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল।
বিভিন্ন হাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সখীপুর উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী জোড়দীঘি বাজার থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উঠতে গোড়াই পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার সড়কে কমপক্ষে ১৫টি স্থানে হাটবাজার বসছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঐ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ। যানবাহনের চালকরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনাও।
কুতুবপুর-গোড়াই আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার কুতুবপুর, বড়চওনা, কালিয়া, কচুয়া, বোয়ালী, নলুয়া, দেওদীঘি, মির্জাপুর-সখীপুরের সীমান্তবর্তী তক্তারচালা, বাঁশতৈল, কাইতলা, হাঁটুভাঙ্গা, গোড়াইসহ বিভিন্ন স্থানে সপ্তাহ জুড়ে বসে সড়কের ওপর হাট। বিশেষ করে রবি ও বুধবার কুতুবপুর ও শনিবার তক্তারচালায় হাট বসে। কুতুবপুর বাজারে সবচেয়ে বড় কলার হাট বসে। এ হাট থেকে সপ্তাহে ৫ থেকে ৬০০ ট্রাক কলা ভরে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। শনিবারে তক্তারচালা বাজারে ফার্নিচার ও কাইতলা বাজারে বসে পশুর হাট। এ দুই হাট থেকে ট্রাকে ট্রাকে ফার্নিচার ও গরু-ছাগল ভরে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এছাড়াও সড়কের ওপর আম, কাঁঠাল, কলা, ধান, আনারস, বেগুন, মরিচ, হলুদ, করলা, মুলা, শাকসবজিসহ বিভিন্ন কাঁচামালের পসরা সাজিয়ে নিয়মিত চলছে বেচাকেনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও রাস্তা পারাপারে ভোগান্তিতে পড়েন।
ভুক্তভোগী হতেয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাটের দিন হলেই প্রায় ১ ঘণ্টা সময় বেশি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে হয়। সড়কের ওপর বাজার বসায় এ সমস্যা হচ্ছে। সখীপুর-গোড়াই সড়কটি চলাচলের প্রধান সড়ক হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি বাড়ছে।’ তিনি দ্রুত সড়কের ওপর এসব হাটবাজার বন্ধ করার দাবি জানান।
তক্তারচালা হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা মুনছুর আলী, বেল্লাল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘জায়গা না থাকায় সড়কে বসেই আমাদের বেচাকেনা করতে হয়। রাস্তার ওপর বসলেও ইজারাদারদের খাজনা দিতে হয়।’ রাস্তার ওপর না বসে নির্দিষ্ট জায়গায় হাট বসলে ভালো হতো বলে জানান তারা। তক্তারচালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ফরহাদ শিকদার বলেন, ‘এক বছরের জন্য ৩৫ লাখ টাকায় হাট ইজারায় এনেছি। জায়গা না থাকায় রাস্তার ওপরে হাট বসে। ইজারাদারসহ কয়েক জন লোক থাকে, যাতে যানজটের সৃষ্টি না হয়।’ নলুয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন মিয়া বলেন, হাটের বিষয়টি ইজারাদাররা দেখেন। তারাই খাজনা তোলেন। তবে সড়কের ওপর হাট বসায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ সমস্যা নিরসনে যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আলম বলেন, ‘সড়কের ওপর হাট বসার বিষয়ে অবগত আছি। বাজারের ইজারাদার ও বাজার বণিক সমিতির সভাপতিদের ইতিমধ্যে জানিয়েছি। দ্রুত রাস্তার ওপর থেকে হাট সরানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’