চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি প্রস্তুতকারকেরা বিপুল উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ের লিথিয়াম খনিতে বিনিয়োগে। বিদ্যুৎচালিত গাড়ির ব্যাটারি প্রস্তুতে অন্যতম জরুরি উপাদান এই লিথিয়াম।
জিম্বাবুয়ের একটি প্রধান খনি কোম্পানি আগামী বছর থেকে স্পোডুমিন নামের লিথিয়ামযুক্ত আকর চীনে পাঠানো শুরু করতে রাজি হয়েছে।
ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার যত বড় হচ্ছে, ততই লিথিয়ামের চাহিদাও বাড়ছে। এরপর থেকেই মূলত জিম্বাবোয়ের খনিগুলোতে লিথিয়াম উৎপাদনও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মৌলিক পদার্থটির বিপুল মজুদ রয়েছে দেশটিতে।
জুলু লিথিয়াম মাইনস প্রিমিয়ার আফ্রিকান মিনারেলস-এর একটি সহায়ক সংস্থা। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী জর্জ রোচ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি চীনা, ইউরোপিয়ান এবং অস্ট্রেলিয়ান বিনিয়োগকারীর মধ্য থেকে তারা সুঝো টিএ অ্যান্ড এ ক্লিন টেকনোলজি কো. কে বেছে নিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘‘এক পর্যায়ে ১১ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আমরা কথা বলছিলাম, যাদের প্রত্যেকেই জুলুতে বিনিয়োগ করতে চান।''
জুলু খনিতে একটি পরীক্ষামূলক প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে সুঝো। এর ফলে খনিটিতে বছরে ৫০ হাজার টন লিথিয়ামযুক্ত আকর উৎপাদন সম্ভব হবে। এই বিনিয়োগের ফলে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল সরবরাহকারীতে পরিণত হবে প্রতিষ্ঠানটি।
চীনের শীর্ষস্থানীয় লিথিয়াম উৎপাদনকারী ইবিন চিয়ানইয়ের যৌথ মালিকানার পাশাপাশি স্পোডিমিনের সরবরাহকারীও সুঝো। সুঝোর সঙ্গে এর যৌথ মালিকানায় রয়েছে চীনের শীর্ষ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনকারী কোম্পানি সিএটিএল। দেশটির মোট লিথিয়াম ব্যাটারির চাহিদার ৩০ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন করে সিএটিএল।
গত মাসে সুঝোর মতোই পদক্ষেপ নিয়েছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান ঝেজিয়াং হুয়ায়ো কোবাল্ট। জিম্বাবোয়ের রাজধানীর ঠিক বাইরে অবস্থিত একটি লিথিয়াম খনিতে ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে তারা। এই অর্থে প্রায় সাড়ে চার টন আকরিক শোধন এবং চার লাখ টন ঘনীভূত লিথিয়াম উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে।
বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির বাজারে পরিবর্তনের ছোঁয়া
বিদ্যুৎচালিত গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে লিথিয়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে এসব গাড়ির চাহিদা যত বাড়ছে, লিথিয়ামের চাহিদার পাশাপাশি দামও বেড়ে চলেছে।
অতীতে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির ব্যাটারি নির্মাতারা নিকেল-ম্যাংগানিজ-কোবাল্ট বা এনএমসি দিয়ে তৈরি করা ব্যাটারির দিকে বেশি মনোযোগী ছিলেন। কিন্তু এখন লিথিয়াম-আয়রন-ফসফেট বা এলএফপি ব্যাটারি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।
লিথিয়ামের দাম বাড়তে থাকায় টেসলার মতো বিদ্যুৎচালিত গাড়ির দামও বাড়ছে। এই মাসেই একেকটি গাড়ির দাম ছয় হাজার ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বের লিথিয়ামের সবচেয়ে বড় মজুদ থাকা দেশগুলোর একটি জিম্বাবুয়ে। দেশটির সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে জিম্বাবুয়েকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে লিথিয়াম খনি শিল্পকে অন্যতম চাবিকাঠি বিবেচনা করছে দেশটি।