নারীকে কুপিয়ে ছিনতাই, প্রধান আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর 

টংগীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের একজন নারীকে কুপিয়ে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ৪ নম্বর আমলি আদালত। 

বুধবার (১৩ জুলাই) মুন্সীগঞ্জ ৪ নম্বর আমলি আদালতে বাদীর আইনজীবী এড. সালমা বেগম গ্রেফতারকৃত আসামী আকাশ মালতের রিমান্ড চাইলে বিজ্ঞ বিচারক মানিক দাস দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

গুরুতর আহত জহুরার মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা সুবর্ণা ইয়াসমিন (২৮) বাদী হয়ে টংগীবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনার রাতেই আসামী আকাশ মালতকে (৩০) স্থানীয়রা ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। 

পরিবারের অভিযোগ, টংগীবাড়িতে জহুরা সিরাজকে (৪৬) কুপিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনার ৭ দিন চলে গেলেও ছিনতাই হওয়া নগদ টাকা, মোবাইল ও ছিনতাইয়ের সময়ের ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।  

বাদী সুবর্ণা ইয়াসমিন (২৮) জানান, তিনি দিঘিরপাড় ইউনিয়নের মিতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার মা জহুরা সিরাজ (৪৬) ছেলের ঢাকা বাসা থেকে ১,৫০,০০০ টাকা নিয়ে আসার পথে বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ১টার সময় কামারখাড়াগামী মিতারাস্থ আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের রাস্তায়  আকাশ মালত (৩০) একা পেয়ে পথরোধ করে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখায়। তখন তার মা আকাশ মালতকে চিনে ফেলায় তিনি ও তার সঙ্গী অপর আসামি জহুরা সিরাজের মাথার পেছনে, বুকের বাম পাশে, পিঠের বিভিন্ন স্থানে এবং বাম হাতে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।  

সুবর্ণা ইয়াসমিন বলেন, আমার মায়ের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা, ব্যবহৃত স্মার্টফোনসহ ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মায়ের চিৎকারে মিঠুন মন্ডল (৩০), আতাউর রহমান (৫০), আসলাম রাড়ি (৬৫), নাহিদা (৪৫) মাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। অবস্থা গুরুতর দেখে ডাক্তার ঢাকা মেডিক্যালে পাঠান। মা ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।  

এবিষয়ে টংগীবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা সোহেব আলী বলেন, অপর আসামির পরিচয় ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় ব্যবহৃত কোনো আলমত এখনো পর্যন্ত জব্দ হয়নি। ছিনতাই করা নগদ টাকা ও মোবাইলও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।