পদ্মা সেতু-শরীয়তপুর সড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগ

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর স্বাগতিক জেলা হিসেবে সবচেয়ে সুবিধাভোগী হওয়ার কথা শরীয়তপুরবাসীর। কিন্তু পদ্মা সেতু থেকে জেলা শহরে প্রবেশের সংযোগ রাস্তাটি সরু ও ভাঙা থাকায় প্রতিনিয়তই তীব্র যানজট হচ্ছে। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে কমপক্ষে তিন-চার ঘণ্টা বিলম্ব হচ্ছে। ফলে সেতুর কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছে না জেলাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত জাজিরা-কাজীরহাট সড়কে দুই কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে কয়েক শ যাত্রীবাহী যানবাহন। তাই স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়কে চলাচলকারীদের দাবি, পদ্মা সেতু থেকে শরীয়তপুর জেলা শহর পর্যন্ত সড়কটি ফোর লেনে রূপান্তরিত করা হোক। এদিকে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় শরীয়তপুর-ঢাকা রুটে অন্তত শতাধিক বিলাসবহুল বাস চালু করেছে বিভিন্ন পরিবহন। সরু সড়কটিতে বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি বাস ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। এতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ২৫ জুন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৬ জুন সকাল ৬টা থেকে থ্রি-হুইলার ব্যতীত সব যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হয় এই সেতু। শরীয়তপুরের ওপর যানবাহন চলাচলের চাপ বেড়ে যায়। পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে শরীয়তপুর জেলা শহর পর্যন্ত সড়কটি সরু ও ভাঙা থাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই অতি দ্রুত চার লেন সড়কের কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন শরীয়তপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি ফারুক আহমেদ তালুকদার।

প্রশ্ন উঠেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পটি মূল নির্মাণকাজ ২০১৪ সালে শুরু হলেও শরীয়তপুরের সংযোগ সড়কটি এত দিনে কেন হয়নি। সেতু হওয়ার পরে কেন কাজ হচ্ছে না।  এ ব্যাপারে তৎকালীন জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতাকেই দায়ী করছে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

সড়ক ও জনপথ—সওজ সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতুর নাওডোবা অ্যাপ্রোচ থেকে শরীয়তপুর জেলা শহরের ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত চার লেনের সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রেমতলা থেকে ৩৪ মিটার প্রস্থের দুই লেনের সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে সেটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে শরীয়তপুর সওজ। সড়কটি নির্মাণ হলে জনভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

জানা গেছে, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এনামুল হক শামীম ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ সংযোগ সড়কের কারণে পিছিয়ে থাকার কথা উল্লেখ করে শরীয়তপুর জেলা সদর পর্যন্ত চার লেনের সড়ক করার জন্য সড়ক ও সেতু বিভাগ সচিবকে চাহিদাপত্র দেন। এরপর ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর এবং ১৭ ডিসেম্বর আরো দুটি চাহিদাপত্র দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তাগিদ দেন উপমন্ত্রী। এছাড়া শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন এমপিও এ ব্যাপারে চাহিদাপত্র দেন। এরপর ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একনেক সভা ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা (পদ্মা সেতু অ্যাপ্রোচ) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শরীয়তপুর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, জমি অধিগ্রহণ এবং করোনার কারণে পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কটির নির্মাণকাজ কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে চার লেন সড়ক বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হওয়ায় পদ্মা সেতুর সুবিধা নিশ্চিতে সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নে তিনটি গুচ্ছ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আপাতত দুই লেনের সড়ক হলেও পরবর্তী সময়ে সেটি চার লেনে উন্নীত করা হবে। ইতিমধ্যে তিনটি প্রকল্পেই টেন্ডার শেষ হয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে, যা ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হবে।