দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ফার্মেসিগুলোতে নাপা ও প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জ্বর, সর্দি, কাশিসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তরা। এসব রোগের প্রকপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নাপা ও প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ বেশি। কোম্পানিগুলো নাপা ও প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের দাম বাড়াবে এমন অজুহাতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে এ জাতীয় ওষুধ সরবরাহ করছেন না।
জানা যায়, ফুলবাড়ী পৌরশহর থেকে শুরু করে উপজেলার সর্বত্রই মানুষ জ্বর, সর্দি, কাশিসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের কারণে নাপা ও প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। রোগীদের বেশির ভাগই নিজ বাড়িতে অবস্থান করে বিভিন্ন চিকিৎসকের অধিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যে সংখ্যক রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী নিজ নিজ বাসাবাড়িতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শহরের নিমতলা মোড় এলাকার কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জীবনের বিভিন্ন সময় অসুস্থ হয়েছি। কিন্তু এই প্রথম ঈদের দিন জ্বর-ঠাণ্ডার কারণে সারাদিন বিছানায় কাটিয়েছি। শুধু আমি নই, স্ত্রী ও মেয়েসহ পরিবারের তিনজনই এ রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকের পরমর্শে বাড়িতেই ওষুধ সেবন করছি। কিন্তু শহরে ওষুধের দোকানগুলোতে নাপা কিংবা প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট কিংবা সিরাপ কোনোটিই পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী সম্ভু প্রসাদ কানু বলেন, ‘আমার ছেলে ডায়মণ্ড গুপ্ত’র জ্বর, সর্দি, কাশিসহ ঠাণ্ডজনিত রোগের জন্য ডাক্তার নাপা কিংবা প্যারাসিটামল জাতীয় সিরাপ নিতে বললেও অন্তত ১০/১২টি ফার্মেসি ঘুরেও ট্যাবলেট কিংবা সিরাপ পাওয়া যায়নি।’
উপজেলা মাদিলাহাট এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত প্রতিদিন অন্তত ২৫-৩০ জন রোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকছেন। এরমধ্যে ৯৮ শতাংশ রোগীই হচ্ছে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। এসব রোগীর নাপা কিংবা প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট কিংবা সিরাপ প্রয়োজন হলেও এগুলো দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাংলাদেশ মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘অন্য সময়ের তুলনায় গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগের ওষুধ হিসেবে নাপা, এক্সট্রা, নাপা এক্সটেন্ড, প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও সিরাপ বেশি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো দাম বাড়াবে বলে নাপা ও প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে ওইসব ওষুধের সংকট চরম দেখা দিয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘যেহেতু আবারও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। জ্বর-ঠাণ্ডা করোনার উপসর্গ। বহির্বিভাগে অন্তত দেড় থেকে ২০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরমধ্যে বেশির ভাগই জ্বর-ঠাণ্ডা-সর্দির রোগী। এদের মধ্যে যাদের শারীরিক অবস্থা খারাপ, তাদের অন্তবিভাগে ভর্তি করে নেওয়া হচ্ছে। নাপাসহ প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সংকটের বিষয়টি জানা নেই।’