রাশিয়া থেকে সৌদির দ্বিগুণ তেল আমদানি

এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে রাশিয়া থেকে দ্বিগুণ জ্বালানি তেল আমদানি করেছে সৌদি আরব। গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য তারা এই তেল আমদানি করেছে বলে জানা গেছে।

রাশিয়া থেকে সৌদির দ্বিগুণ তেল আমদানি

এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে রাশিয়া থেকে দ্বিগুণ জ্বালানি তেল আমদানি করেছে সৌদি আরব। গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য তারা এই তেল আমদানি করেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বে অপরিশোধিত ক্রুড তেলের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। কিন্তু গত তিন মাসে দেশটি নিজেই রাশিয়ার কাছ থেকে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে দুই গুণ বেশি তেল আমদানি করেছে। 

রেফিনিটিভ এইকন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ‘শিপ ট্র্যাকিং ডেটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে দেখা যাচ্ছে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত মস্কোর কাছ থেকে ছয় লাখ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করেছে রিয়াদ। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল তিন লাখ ২০ হাজার। ২০২১ সালে সৌদি আরবে মোট তেল আমদানির পরিমাণ ছিল সাড়ে ১০ লাখ ৫০ হাজার টন। 

এখানেই শেষ নয়, সৌদি আরব বড় আকারের তেল আমদানি করেছে মিশরের কাছ থেকেও। আবার মিশর নিজেও রাশিয়ার কাছ থেকে রেকর্ড অঙ্কের তেল কিনেছে। জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, জুনে মিশর থেকে দৈনিক এক লাখ ১০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে সৌদি আরব। এর আগে কখনও একমাসে দেশটির কাছ থেকে এত বেশি তেল আমদানি করেনি তারা। অন্যদিকে মিশর রাশিয়ার কাছ থেকে একই মাসে রেকর্ড দৈনিক ৭০ হাজার ব্যারেল তেল কিনেছে। 

কেন তেল কিনছে সৌদি আরব?

বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে সৌদি আরব সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়া থেকে দেশটি তেল আমদানি করে। মূলতঃ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য পরিশোধিত তেল কেনে তারা। এতে নিজেদের তেল পরিশোধন করতে হয় না বরং নিজেদের উৎপাদিত অপরিশোধিত ক্রুড বিশ্ব বাজারে অপেক্ষাকৃত বেশি দামে বিক্রি করে। 

চলতি বছর গ্রীষ্মে তীব্র গরমে সৌদি আরবে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়। বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তাই জ্বালানি তেলের আমদানিও বেড়েছে বলে জানিয়েছে ভারটেক্স। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে জুনে দৈনিক তিন লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে সৌদি যা ২০২০ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। 

বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাশিয়া থেকে সৌদি আরবের তেল আমদানির পরিসংখ্যান নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রয়টার্সের কাছে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে রাশিয়ার পোয়াবারো

ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশিয়ার উপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে তেমন প্রভাব পড়েনি। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সৌদি আরবের মতো বিভিন্ন দেশ বরং তাদের থেকে আমদানি বাড়িয়েছে। এই তালিকায় আছে চীন, ভারতসহ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশও।

বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিও রাশিয়ার জন্য সুফল বয়ে এনেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনে দেশটির চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত রেকর্ড সাত হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি ও পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বৃদ্ধি সেই সঙ্গে আমদানি হ্রাস এই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে বছরের প্রথমার্ধে রাশিয়ার চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ১৩ হাজার ৮৫০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে তিন গুণ বেশি।